মহাকাশে খুব কাছাকাছি থাকা নক্ষত্রযুক্ত বিরল নক্ষত্রমণ্ডলীর সন্ধান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬

মহাকাশে এতে ঘন বা ঠাসাঠাসি অবস্থায় অবস্থিত সবচেয়ে নক্ষত্রযুক্ত নক্ষত্রমণ্ডলী আবিষ্কার করেছেন হাঙ্গেরির সেজেড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তামাস বোরকোভিটস। আবিষ্কারটি একইভাবে মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি দেখিয়েছে যে মহাকাশে নক্ষত্ররা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এই আবিষ্কারের তথ্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ এত কাছাকাছি থেকে নক্ষত্ররা জন্ম নেয়, টিকে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত যেভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায় তা মানুষের জন্য অদ্ভুত এবং আশ্চর্যজনক।

তামাস বোরকোভিটস বলেন, নাসার টেস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, একটি সাধারণ জোড়া নক্ষত্রের মধ্যে যখন বিনারি সিস্টেম পাওয়া যায়, তখন আলোর তীব্রতা কমতে থাকে। তবে, এখানে একটি তৃতীয় নক্ষত্র রয়েছে যা ৫১.৩ দিনের মধ্যে বাকী নক্ষত্র জোড়াটির কাছে প্রদক্ষিণ করছে। পরে গ্রাউন্ড-ভিত্তিক স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করে চতুর্থ নক্ষত্রটি আবিষ্কৃত হয়েছে। এই চতুর্থ নক্ষত্র বাকি তিনটি নক্ষত্রের প্রতি ১৪৬ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে। এই চারটি নক্ষত্রযুক্ত নক্ষত্রমণ্ডলীর প্রতিটির বর্ণালিরেখা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা একটি অদ্ভুত ঘটনা।

চারটি নক্ষত্রের ভর এবং তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এবং তিনটি নক্ষত্র আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক উত্তপ্ত এবং ভারী। সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটির ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭৫ গুণ। অন্যদিকে, চতুর্থ নক্ষত্রটির ভর আমাদের সূর্যের মতোই। এই তিনটি বৃহত্তম নক্ষত্র যেখানে বুধের কক্ষপথের সমান জায়গায় ঘুরছে, সেখানে চতুর্থ নক্ষত্রটি সূর্য থেকে বৃহস্পতির দূরত্বের চেয়েও কম দূরত্বে অবস্থান করছে। বর্তমানে, এই সিস্টেমটি স্থিতিশীল মনে হলেও কম্পিউটার মডেল বলছে যে এর ভবিষ্যৎ বেশ নাটকীয় হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাজাগতের নক্ষত্রগুলি চিরকাল আলাদা থাকবে না। যখন সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটি আরম্ভিক আকারে বড় হতে শুরু করবে, তখন এর গ্যাস অন্য নক্ষত্রের কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে, নক্ষত্রগুলির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটবে এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাবে। শেষ পর্যন্ত, চারটি নক্ষত্রের বদলে সেখানে কেবল দুটি হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা মৃত নক্ষত্রের ঘন কেন্দ্র অবশিষ্ট থাকবে।উৎস: আর্থ ডটকম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top