বোয়িং স্টারলাইনারের ব্যর্থ উড্ডয়ন, তদন্তে যা জানা গেল

বোয়িং কোম্পানির তৈরি স্টারলাইনার মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নাসা। সংস্থাটি এই ঘটনাকে এখন ‘টাইপ এ দুর্ঘটনা’ বলছে। নাসার ভাষায়, এটি খুবই গুরুতর ঘটনা। সাধারণত বড় আর্থিক ক্ষতি, যান নিয়ন্ত্রণ হারানো বা প্রাণহানির মতো ঘটনার ক্ষেত্রে এই শ্রেণি ব্যবহার করা হয়। যদিও এখানে কেউ মারা যাননি, তবু ঝুঁকি ছিল বড়।

২০২৪ সালের জুনে দুই নভোচারী—সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর—স্টারলাইনারে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান। তাদের এক সপ্তাহ থাকার কথা ছিল। কিন্তু পথে মহাকাশযানে হিলিয়াম গ্যাস লিক করে এবং কয়েকটি থ্রাস্টার (চালনার ছোট ইঞ্জিন) কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।

নাসা পরে সিদ্ধান্ত নেয়, এই যানে তাদের ফিরিয়ে আনা ঠিক হবে না। তাই তারা স্পেসএক্সের অন্য একটি ক্যাপসুলে করে পৃথিবীতে ফেরেন। এতে তাদের মহাকাশে থাকতে হয় নয় মাসের বেশি সময়।

নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, এই মিশনে বড় ধরনের সিদ্ধান্তগত ভুল ছিল। তিনি বলেন, যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। তদন্তে দেখা গেছে, স্টারলাইনারের ইঞ্জিন ব্যবস্থায় দুর্বলতা ছিল। নাসার তদারকিতেও ঘাটতি ছিল। এমনকি কিছু বৈঠকে কর্মকর্তাদের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচির ঘটনাও ঘটে।

বোয়িং প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এই যান তৈরি করেছে। কোম্পানিটি বলেছে, তারা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার পর নাসা আরও সতর্ক হয়েছে। সামনে আর্টেমিস-২ নামে চাঁদে পাঠানোর একটি বড় মিশন আছে। নাসা বলছে, সেখানে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। যেন ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না হয়।

1 thought on “বোয়িং স্টারলাইনারের ব্যর্থ উড্ডয়ন, তদন্তে যা জানা গেল”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top