হাঁটু ব্যথা কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ নয়, এটি যেকোনো বয়সের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্থবির করে দিতে পারে। গবেষণামতে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন।
ব্যথার উৎস শনাক্তকরণ
হাঁটু ব্যথার সঠিক চিকিৎসার জন্য আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ব্যথাটি আসলে কোথায়। এটি হতে পারে:
হাড় বা তরুণাস্থির ক্ষয় (Osteoarthritis)
লিগামেন্ট বা মিনিস্কাস ইনজুরি
মাংসপেশি বা টেনডনের দুর্বলতা
হাঁটুর স্বাভাবিক রেঞ্জ কমে যাওয়া
কার্যকর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা
হাঁটুর জটিলতায় ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে আধুনিক ফিজিওথেরাপি। এর ধাপগুলো হলো:
সফট টিস্যু মোবালাইজেশন: বিশেষ পদ্ধতিতে মাংসপেশি ও লিগামেন্টকে নমনীয় করা।
মাংসপেশির শক্তিশালীকরণ: কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিং এবং গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস মাসলের স্ট্রেচিং ও স্ট্রেন্দেনিং এক্সারসাইজ।
ইলেক্ট্রিক্যাল মোডালিটিস: দ্রুত ব্যথা কমাতে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি বা অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
বায়োমেকানিক্স সংশোধন: হাঁটুকে সম্পূর্ণ সোজা ও বাঁকা করার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে হোল্ড-রিলাক্সড এক্সারসাইজ।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি পুনরায় ব্যথা প্রতিরোধে নিচের নিয়মগুলো জরুরি:
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা।
নিচু পিঁড়ি বা মোড়ায় না বসা।
চিকিৎসকের শেখানো থেরাপিউটিক ব্যায়ামগুলো নিয়ম করে বাড়িতে চালিয়ে যাওয়া।
সঠিক রোগ নির্ণয় এবং ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কয়েক সপ্তাহের নিবিড় চিকিৎসায় হাঁটু ব্যথা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
লেখক : মাস্কুলোস্কেলিটাল ব্যথা বিশেষজ্ঞ

