চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত সরকারের কাঁধে যাচ্ছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে চলছে ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র লড়াই। এ দুই জোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বিভিন্ন আলোচনা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে বিজয়ী দলের নাম।নির্বাচনে বিজয়ী হতে দুই জোটের মধ্যে যেমন চলছে বাগ্যুদ্ধ, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগোন্নয়নের কথা বললেও দল দুটির কৌশলে রয়েছে ভিন্নতা। জনগণের সমর্থন আদায়ে অঞ্চলভিত্তিকও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই জোটের শীর্ষ নেতারা। সাধারণত বাজেটের মাধ্যমেই নির্বাচিত সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলেও চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসছে কিÑএমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা পর্যালোচনা হয়নি বললেই চলে। ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, সেটিই বাস্তবায়ন করবে নাকি বড় ধরনের পরিবর্তন হবেÑসেটি স্পষ্ট নয়।বিএনপির নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এক উপদেষ্টা আমার দেশকে বলেন, নির্বাচনের পরপরই রমজান মাস শুরু হবে। বিএনপি জনগণের রায়ে সরকার গঠনে সমর্থ হলে রমজান মাসে পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সব ধরণের প্রচেষ্টা থাকবে। প্রয়োজনবোধে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি।অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে কোনো ধরনের পর্যালোচনা হয়নি বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, যদি আমরা জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।এদিকে, নতুন সরকারের পক্ষে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কাঠামোগত বড় ধরনের পরিবর্তন করা সহজ হবে না বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সদস্য আমার দেশকে জানান। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের পাঁচ মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এ সময় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে গেলেও সময় প্রয়োজন। কিন্তু সে পরিবর্তন বাস্তবায়ন চলতি অর্থবছরে শুরু করা খুবই কঠিন হবে।তিনি আরো বলেন, সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকেই পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। সে হিসাবে আমরা নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য কাজ করব। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও সেটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।




চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত সরকারের কাঁধে যাচ্ছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব।