নীলফামারীর সৈয়দপুরে হিমাগারে রাখা আলুর বাজারে ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ, পরিবহণ ব্যয় ও হিমাগার ভাড়া বহন করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে না পেরে অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ফলে আলু খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। মৌসুমের শুরুতে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় হিমাগারে পর্যাপ্ত আলু মজুত করেন কৃষকরা; কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর চাহিদা কম থাকায় দাম ক্রমেই কমে যাচ্ছে। যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচই উঠছে না বরং উল্টো বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে মজুত করা আলু। সৈয়দপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর লাভের স্বপ্ন নিয়ে হিমাগারে ব্যাপক পরিমাণ আলু মজুত করেন। তবে এবার দাম না থাকায় স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে কৃষকের।
কৃষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, সরকারের প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে বাজার মনিটরিং বাড়ানো উচিত এবং হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর জন্য প্রোত্সাহনা ও সহায়তা প্রদান করতে হবে। হিমাগারের ভাড়া, পরিবহণ খরচ এবং শ্রমিক মজুরির সাথে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা ব্যয় হয়। এই আলু বিক্রি দাম ১০ থেকে ১২ টাকা কেজির দরে। ফলে, প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুরের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আলুর বাজার খুব খারাপ। আমরা প্রতি বছর হিমাগারে আলু উৎপাদন করি, কিন্তু এবার আলুর দাম একেবারেই কম। কেজিপ্রতি ১০ টাকা লোকসান হয়েছে। ৬০ কেজি আলু রেখে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়।
সৈয়দপুরের বাঙালীপুর ইউনিয়নের কৃষক রবিউল বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না হচ্ছে, বরং বাজারে ১০ টাকা কেজির দরে বিক্রি হচ্ছে। আমাদের তৈরি করা আলু বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে; অন্যদিকে ক্রয় করার তো এমন ব্যবসায়ীর নেই। তিনি বলেন, লাভের আশায় হিমাগারে আলু উৎপাদন করেছিলাম কিন্তু এবার লোকসান হয়ে গেল। অনেক টাকা খরচ করে আলু আবাদ করেছিলাম; যে ব্যয় হয়েছে সেটাও উঠে না। সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ির কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঋণ করে আলু রোপণ করেছিলাম। পরে হিমাগারে উৎপাদন রেখেছিলাম ভাল দাম পাওয়ার আশায়; কিন্তু হয়েছে উল্টো। এবার আলুতে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। সরকারের উচিত আলু উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে আলুর বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।





ঢাকাতে কমেনি
টাকা কামাবে
বেশি করে আলু কান। ভাতের উপর চাপ কমান।
ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে উচিত।