টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি—অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ পুলিশ

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে থানায় নিতে গিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় পুলিশকে। কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ। পরে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ এবং স্থানীয় উৎস দ্বারা প্রাপ্ত তথ্যের অনুযায়ী, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় আটক করে পুলিশ মনির হোসেনকে অভিযুক্ত করেছে। যখন পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিক্ষোভকর্মীরা অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেগপ্রদ দাবি করছিল। সম্ভাব্যতঃ শত শত মানুষ পুলিশ গাড়ি ঘেরে দিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকর্মীরা পিছু হাটায় নিয়েছিলেন। একই সময়ে বিক্ষোভকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। রাত ৮টার দিকে পুলিশ গ্যাসের শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে দেয়। এই সময়ে বিক্ষোভকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল দিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে লোকজনকে বিচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিল।

একটি ঘটনার শিকার হওয়া এক শিশু প্রথমে তার আত্মীয়কে বলল, ‘আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই। পুলিশের হাতে দেব না।’রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে, পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চলে যায়। তারপরও উত্তেজিত লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের ভাষ্য, মামলা হলেও অভিযুক্ত কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আসতে পারেন, আর বিচারপ্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাবে।

আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে দাবি করে নগর পুলিশের সহকর্মী কমিশনার (মাধ্যমিক) আমিনুর রশিদ রাত সা’ড়ে ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় বিদ্যুত চলে যাওয়ার সুযোগে পুলিশের কৌশলে অভিযোগীকে সরিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জানাননি তিনি। আমিনুর রশিদ বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং লোকজনকে আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top