প্রাথমিকে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, পিএসসির মাধ্যমে ১১২২ পদে নিয়োগ, অপেক্ষায় ৭ লাখ প্রার্থী

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পরিস্থিতি খুব দুর্ভাগ্যজনক। বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ও মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৩৪ হাজার ১৫৯টি প্রধান শিক্ষকের পদই শূন্য। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এই বিরাট শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১২২টি পদের। শূন্য পদের তুলনায় এই বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত অপ্রতুল। বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন প্রায় ৭ লাখ চাকরিপ্রার্থী। তবে আবেদনের প্রক্রিয়া গত বছরের অক্টোবরে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক-সংকটের কারণে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৪৫৭টি। বিশাল এই শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধান শিক্ষকের সংকট কাটানোর লক্ষ্যে গত বছরের ৩১ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ১ হাজার ১২২টি পদের বিপরীতে ৭ লাখ প্রার্থীর আবেদন দেশের শিক্ষিত বেকার সমস্যার ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করেছিল। এই হিসাবে প্রতিটি পদের জন্য লড়বেন গড়ে ৬২৪ জন প্রার্থী।

প্রথমেই পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ১৬৯টি শূন্য পদের উল্লেখ থাকলেও, মধ্যে নিয়োগ বিধিমালাটি সংশোধিত হলে পদসংখ্যা কমিয়ে পৌঁছেছে ১ হাজার ১২২টি। নতুন নিয়মে মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদসংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে এবং বেতন গ্রেড উন্নীত হওয়ার ফলে প্রতিযোগিতার মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড লাভ করেনি।

প্রধানগুলো পিএসসি প্রকাশ করেছে, যেখানে নিয়োগ পরীক্ষা হবে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে। এখানে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে যেখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস হতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে, পরবর্তী ধাপে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।সম্পর্কিত ব্যক্তিগণ এমন মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান কায়েকটা উন্নত করে রাখা জরুরি যাতে এই নিয়োগ তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করা যায়। ৭ লাখ প্রার্থীর এই তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে এরা যারা যোগ্য শিক্ষক হিসেবে উত্তীর্ণ হবেন, সেই মানুষগুলির প্রশ্নই এখন সম্মানিত বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top