প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬
মাদারীপুরে বিস্তারণের কেন্দ্রে অ্যালামগীর হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তির হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে এবং তা প্রতিপক্ষের বাসস্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত। এ সময়ে একাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং কিছু বাসস্থানে আগুন লাগানো হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
আজ সকাল সাতটার দিকে আলমগীর হাওলাদারকে গুণহানি করে তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন। এই সময়ে তাঁর ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। হামলাকারীদের দ্বারা তাঁর ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।হত্যার বিষয়ে নিহত আলমগীর হাওলাদার একজন মাদারীপুর পৌরসভাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার মৃত হাফেজ হাওলাদারের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা করতেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুনশি হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের দ্বারা।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে জানান, আলমগীর হাওলাদারকে হত্যার পর প্রতিপক্ষ হাসান মুনশিসহ তাঁর লোকজন এলাকাছাড়া। এই সুযোগে একটি পক্ষ রাস্তাঘাট অবরোধ করে প্রতিপক্ষের সমর্থিত কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দিয়েছে। ইফতারের পরেই এ ঘটনার সূত্রপাত। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
আলমগীরকে হত্যার ক্ষেত্রে প্রতিবাদ স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যার সাড়ে তিনটায় তার লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অভিযান ও দখল করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। সেখানে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বলে দেওয়া হয়েছে যে, হামলার সময় পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং তারা কিছু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। হত্যার প্রতিবাদে বিরুদ্ধে ক্রিযান্বয়নের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকাটির একটি অংশ পড়েছে মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে নতুন মাদারীপুর এলাকায় এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে ওই এলাকায় সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুনশির আধিপত্য দেখাতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নতুন মাদারীপুর এলাকায় শ্রমিক দলের একটি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শাকিল মুনশিকে কুপিয়ে হত্যা করে মনিরুজ্জামানের লোকজন। যদিও হত্যাকাণ্ডের আগেই মনিরুজ্জামান কারাগারে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিরোধ থাকায় শাকিল হত্যা তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে আসামি করা হয়। এ মামলার আসামি ছিলেন মনিরুজ্জামানের চাচাতো ভাই নিহত আলমগীর হাওলাদারও।
মনিরুজ্জামান আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করার বিষয়ে হাসান মুনশিরের ভাই শাকিল মুনশির নিহত হন। সর্বশেষে রাতে সম্প্রতি অন্তত দশবার টর্চলাইট প্রকাশ করে ধাওয়া ও অন্যান্য হামলায় পাল্টাপাল্টি ঘটে। প্রতিবার হামলায় উভয়ই হাতবমা নিক্ষেপ করে নিজেদের দাবি করে, যা সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়।
এ বিরোধের ঘটনায় মনিরুজ্জামানের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বাড়িতে প্রতিপক্ষ হাসান মুনশি ও তাঁর অনুযায়ী হামলা চালান। সেই সময়ে আলমগীরকে আক্রান্ত করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে ভাঙ্গা ও লুটপাট করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় সন্দেহে আবিদ ব্যাপারী (৫৪) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।




