জামাই পিঠা, বউ সুন্দরী, পাতা নকশি, হৃদয়হরণ, মালাই রোল, কোমড়া পিঠা, চিতই পিঠা, ফুল পিঠা, ঝিনুক পিঠা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসমালাইসহ বাহারি জাতের পিঠা। জেলার ঐতিহ্যবাহী এসব পিঠা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে হাজির হন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার এই কলেজে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। নানা জাতের পিঠার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। কলেজ প্রাঙ্গণে ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হারুন অর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজের উদ্যোক্তা ও পরিচালক শাহীন মৃধা, পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক অভিজিৎ রায়। পিঠা নিয়ে ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৮টি স্টল বসান। এসব স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা শোভা পেয়েছে। বিভিন্ন স্টলে গিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু পিঠা চোখে পড়ে। শিক্ষার্থীরা সতীন, জমাই পিঠা, সন্দেশ, নকশি পিঠা, নেভিকুলা, চিতই, দুধ চিতই, পোয়া পিঠা, ছিটা রুটি, চিতল পিঠাসহ শতাধিক জাতের পিঠা নিয়ে হাজির হয়েছেন।
শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার ও নাজিবা সুলতানা বলেন, জমাই পিঠা, বউ সুন্দরী, সন্দেশ, দুধ চিতই , পাকন পিঠাসহ নানা জাতের বাহারি পিঠা আমাদের ঐহিত্য। কলেজ কর্তৃপক্ষ উৎসব শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে আর্থিক সহায়তা ও অংশগ্রহনকারী সকল স্টলকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এটি ভালো লেগেছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের স্টল থেকে পিঠা কিনে খাওয়ার পাশাপাশি কেউ কেউ কিনে বাড়ি নিয়ে গেছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনা বালা মল্লিক বলেন, পিঠা উৎসবে আমরা শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। ইংরেজি প্রভাষক অভিজিৎ রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা দিনটিকে উৎসবের রং দিয়েছে। তারা দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিঠা তৈরি করেছেন। পিঠা উৎসবের আয়োজকেরা বলেন, একসময় বাংলার ঘরে ঘরে শীত এলে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যেত। কিন্তু এই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার এই চিরন্তন ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।




