লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন সভা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর একটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাদাত হোসেন সুপ্রকাশ করে বলেছেন, তদন্তের জন্য এক সদস্যের একটি কমিটি শনিবার সকালে প্রধান হিসেবে গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়িতে হাতীবান্ধা থানার ওসির গোপন সভার অভিযোগ ওঠে। তবে আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিল, বৈঠক নয়।
সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) কেন্দ্রের জন্য ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমজাদ হোসেন তাজু আওয়ামী লীগের অভিনয়কারী প্রার্থী ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে বৃহস্পতিবার রাতের দাওয়াতের আড়ালে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ছয়জন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগ করা হয়েছে যে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহও এতে যোগ দিয়েছিলেন। সভা শেষে তিনি দাওয়াত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিতি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই সভায় হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও জেলার বাইরের প্রশাসনিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেছেন, এটি কোনো সভা ছিল না; বরং এটি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান, এবং সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবি করেছেন যে তিনি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে যাননি।
লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন বলেন, ওই দাওয়াতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন, এবং তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সেখানে গিয়েছিলেন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ওসির বৈঠকের অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।