১৩ বছরে ৯ ক্লাবে কোচিং করানো টুডর টটেনহ্যামে

থমাস ফ্রাঙ্ককে বিদায়ের দরজা দেখিয়ে দেওয়ার পাঁচ দিন পরই নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। প্রিমিয়ার লিগে রেলিগেশন থেকে মাত্র ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা দলকে উদ্ধারের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্পারদের ডাগআউটে দাঁড়াচ্ছেন ইগোর টুডর। 

চলতি বছর ১১ ম্যাচে স্পাররা একমাত্র জয় পেয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। সবশেষ নিউক্যাসেলের কাছে হারের পর ফ্রাঙ্কের বিদায় ঘণ্টা বাজে। ২৬ ম্যাচে ১১তম হারে ১৭ নম্বরে নেমে গেছে টটেনহ্যাম। খাদের কিনারায় থাকা ক্লাবকে কে টেনে তুলবেন, সেই ব্যাপারে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কয়েকজনকে নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও টুডরকে কেউ কল্পনাও করেননি। তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ না দেওয়ার শর্ত রেখে আনা হয়েছে। এই মৌসুমের শেষ পর্যন্ত থাকবেন তিনি। 

দায়িত্ব নিয়ে দলকে উদ্ধার করা টুডরের কাছে নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের মার্চে লাৎসিওর দায়িত্ব পেয়ে তাদেরকে সপ্তম স্থানে তুলে ইউরোপা লিগের টিকিট এনে দেন। গত মৌসুমে ক্রোয়েশিয়ান কোচ জুভেন্টাসে থিয়াগো মোত্তার স্থলাভিষিক্ত হন। শেষ দিকে তার দল ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু টুডরের কোচিং ক্যারিয়ারের একটি পরিসংখ্যান বলছে, তিনি একজন ক্ষণস্থায়ী কোচ।

প্রধান কোচ হিসেবে টটেনহ্যাম টুডরের দশম ভিন্ন ক্লাব এবং তার ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ারে প্রিমিয়ার লিগ ষষ্ঠ ভিন্ন লিগ।

টুডর কোনো ক্লাবে একটি পুরো মৌসুমের চেয়ে বেশি সময় পার করেছেন শুধু হাদুক স্প্লিটে। সেটাই ছিল তার কোচিং ক্যারিয়ারের প্রথম ক্লাব, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত।

হাজুকে টুডরের ক্যারিয়ার ৭০ ম্যাচের এবং একমাত্র ক্লাব হিসেবে সেখানেই তিনি ৫০ ম্যাচের বেশি ডাগআউটে দাঁড়ান। জুভেন্টাসে তার ক্যারিয়ার ছিল ২৪ ম্যাচের। সবশেষ ক্লাবটির হয়ে এই মৌসুমের শুরুতে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা আট ম্যাচ জয়হীন ছিলেন। টানা তিন হারে চাকরিও গেছে তার। টুডর বিদায় নেওয়ার সময় টেবিলের আটে থাকা দলটি এখন সিরি আ-তে চতুর্থ স্থানে উঠে গেছে।

অর্থাৎ, দলকে উদ্ধারের ইতিহাস থাকলেও টুডরের কোচিং ক্যারিয়ার তেমন সমৃদ্ধ নয়। টটেনহ্যামকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিতে পারবেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত ২০২৬ সালে টটেনহ্যামকে লিগে প্রথম জয় এনে দেওয়ার মিশনে নামতে হচ্ছে তাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top