সাফজয়ীদের সংবর্ধনায় কোচ কক্সের ডাক, ‘২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখুক বাংলাদেশ’

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে যেখানে তারা সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে পৌঁছায় রাতে ১০টায়। খেলোয়াড়গণ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চোটের কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়ে মঞ্চে আসেন এক খেলোয়াড়, এরপর আসেন সাফের সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। একে একে সব খেলোয়াড়কে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। ডেকলান সুলিভানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবার শেষে মঞ্চে আসেন রোনান সুলিভান। উপস্থাপক ট্রফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সেটি এনে মঞ্চের সামনে রাখা হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান ওঠে।

আমিনুল হক, যিনি জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। সাফের ফাইনালে গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকারে একটা শট সেভের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০০৩ সালে। ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনিও একটি শট আটকান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশাল পর্দায় বাংলাদেশের সাফ জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো প্রদর্শিত হয়। পরে পুনরায় সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর অধিনায়ক মিঠুকে পুষ্পের সাথে ভরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই দলই বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

এই অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষদের প্রস্তুতিতে অনেক জন অংশ নিলেও উন্নতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সফলতা অর্জন করা যায়নি। গ্যালারির এক অংশে পূর্ণতা হয়নি। তবে ইভেন্টটি রম্বণ ও আকর্ষণীয় ছিল। মুখের বিভাগে সাফল্যের দলের ছবি ও খেলোয়ারদের জনপদের ছবি দেখা যায়। মঞ্চে ‘CHAMPIONS’ লেখা ছিল। আলোক জ্বালানো মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলো সম্পূর্ণ গল্পের মোড়কে ধরে নিয়েছিল।সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘যদি মানবতা, দেশপ্রেম এবং একতা থাকে, তাহলে কোনো শক্তি বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এখন জানাতে পারি – আমরা চ্যাম্পিয়ন। তবে এটা সুতরাং শেষ নয়, কোচ মার্ক কক্সের পরামর্শে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৬ (আসলে হবে ২০৩৪) সালে আমাদের যাবতীয় পরিশ্রম করতে হবে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top