রিয়ালের অধিনায়ক মানেই কাঁটার মুকুট, মৌসুম শেষেই বিদায়

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদে। এই নামটা শুনলেই হৃদয়ে উঠে আভিজাত্য আর রাজনৈতিক সকল অনুভূতি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই সবুজ ঘাসে সাদা জার্সি পরে জড়িয়ে দৌড়ানো যতটা গৌরবের, বাঁ হাতে নেতার ওই আর্মব্যান্ডটা পরা তার চেয়েও বেশি ওজনের। এই আর্মব্যান্ডটি মাত্র নেতৃত্ব নয়, এটি এক বৃহত্তর দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়ালের এই নেতাকে কেন যেন “বিদায়ের শেষ অলংকার” বলে মনে হচ্ছে। এক অদ্ভুত প্রাণবন্ত অভিশাপ যেন তাড়া করে ফিরছে ক্লাবের সেনাপতিদের।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে বলা যায়, আপনার জীবনে বেশি কঠিনতা আসতে পারে। এক দশক আগে, ড্রেসিংরুমের সর্বোত্তম অধিনায়কত্বও রিয়ালে ছিল। তবে, 2021 সালে গল্পটি পুরাতন হয়ে গেছে। চিত্রনাট্য এখন এমন— যত সীমান্ত গুড়িয়ে দেওয়া চলতেছে। মৌসুমের শুরুতে, একটি ক্লাবের অনুষ্ঠানে একটি অধিনায়ক দায়িত্ব নিয়েছেন।

গল্পের শুরু হয়েছিল সের্হিও রামোসের সাথে। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ‘এল কাপিতানো’ ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি প্রথম অধিনায়ক হন। বার্নাব্যুতে তাঁর মহাকাব্য শেষ হবে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু মৌসুমের শেষে তাকে চোখে জল ধরে বিদায় নিতে হলো। পরের বছর ২০২২ সালে, আর্মব্যান্ড মার্সেলো বাঁ পায়ের জাদুকর হাতে নিলেন। ফলাফল? একই জিনিস। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে তিনিও ক্লাব ছাড়লেন।

২০২৩ সালে মরুর দেশে পড়ি গেল করিম বেনজেমার। এই ফরাসি ফুটবলারও নির্ধারিত নিয়ম ভাঙতে পারলেন না। পরবর্তী বছর, ২০২৪ সালে, লা ফাব্রিকা একাডেমি থেকে উঠে আসা নাচো ফার্নান্দেজ। প্রযোজ্যতা হয়তো রিয়ালের ঘরের ছেলে, তবে তিনি সফলভাবে রক্ষা পেতে পারেননি। তাও কেননা, মৌসুম শেষে তার কাছেই বিদায়ী সংবর্ধনা ছিল।

২০২৫ সালে রিয়ালের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োজিত হলেন কিংবদন্তি লুকা মদরিচ। তারা মাঝমাঠের এই শিল্পী ব্যক্তি হিসেবে নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে মৌসুম শেষে দাঁড়িয়ে আছেন এসি মিলানে। প্রতি বছরই অধিনায়ক পরিবর্তন হচ্ছে, এবং প্রতিবারে কেউ-কেউ বিদায় নেয়। রিয়ালের আর্মব্যান্ড এখন মনে হচ্ছে একটি পাসপোর্ট, যার মেয়াদ শেষ হলেই অন্য দেশে যেতে হচ্ছেন!এখন আগে উত্তপ্ত আগুনের উপর দাঁড়িয়ে আছেন সাহসী কারভাহাল। রিয়ালের ড্রেসিংরুমের এই অভিজ্ঞ সৈনিক এখন দলের প্রথম অধিনায়ক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রিয়াল এই কারভাহালের চুক্তি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে তিনি আরও লম্বা সময় থাকবেন। কিন্তু এখন বিদায়ের সময় আসেছে। সাম্প্রতিক চোট এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কারভাহালকে বিদায় নিতে জোর দিয়েছে। এখন কেবল সময়ের ব্যাপারে কথা বলে মনে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top