ভালভের্দের ‘দ্রুততম’ রকেটে চড়ে ফাইনালে বার্সার সামনে রিয়াল

স্প্যানিশ সুপার কাপে গতকাল রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচের তখন আধা মিনিটও (২৬ সেকেন্ড) পেরোয়নি। আতলেতিকো মাদ্রিদের বক্সের বেশ বাইরে ফ্রি–কিক পায় রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে ফাউল করেন আতলেতিকোর মিডফিল্ডার কনোর গ্যালাঘার।
গোলপোস্ট থেকে ২৫ গজ দূরত্বের সেই ফ্রি–কিক নিতে আসেন ফেদে ভালভের্দে। এতটা দূর থেকে ম্যাচের শুরুতেই গোল পাওয়ার আশা হয়তো অনেক রিয়াল সমর্থকও করেননি। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা অনেক দিন মনে রাখার মতো।

ভালভের্দের শট (৭৬ সেকেন্ড) রকেটের গতিতে একটু অবিন্যস্তভাবে সাজানো আতলেতিকোর ‘মানবদেয়াল’ ভেদ করে ঢুকে পড়ে জালে। চোখধাঁধানো এই গোলের পর ভালভের্দের উদ্‌যাপনও ছিল দেখার মতো। দুই হাত দিয়ে মাথা চাপড়াতে চাপড়াতে পাগলাটে ঢঙে দৌড়ান কিছুক্ষণ।
২০০৮ সালের ১৮ অক্টোবরের পর আতলেতিকোর বিপক্ষে এটাই রিয়ালের দ্রুততম গোল। সে বছর লিও ফ্রাঙ্কোর বিপক্ষে লা লিগায় ৩৪ সেকেন্ডে রিয়ালের হয়ে গোল করেছিলেন রুদ ফন নিস্টলরয়। স্প্যানিশ সুপার কাপের ইতিহাসেও ভালভের্দের গোলটি দ্রুততম। এই পথে তিনি ২০১৪ সালে মারিও মানজুকিচের ৮১ সেকেন্ডে করা গোলের রেকর্ড ভাঙলেন—সেটাও ছিল আতলেতিকো—রিয়াল ম্যাচ।
ভালভের্দের এই গোলের পর ৫৫ মিনিটে রিয়ালকে আরও একটি গোল এনে দেন রদ্রিগো। রদ্রিগোর এ গোলেও সহায়তা ছিল ভালভের্দের। এর তিন মিনিট পর আলেক্সান্দার সোরলথ আতলেতিকোর হয়ে গোল করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ২—১ গোলের জয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে উঠেছে রিয়াল।

জেদ্দায় আগামী রোববার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে সুপার কাপের ফাইনালটা হয়ে গেল ‘এল ক্লাসিকো’, যেখানে মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫—০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বার্সা। গত বছর ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। এবার সে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ রিয়ালের সামনে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় গতকাল রাতে বল দখল ও আক্রমণে রিয়ালের ওপর আধিপত্য তৈরি করেছিল আতলেতিকো। ৫১ শতাংশ বলের দখল রাখা আতলেতিকো ২১টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে ৬টি। রিয়াল ৮টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে ৪টি। এমন সব পরিসংখ্যানে রিয়াল পিছিয়ে থাকলেও গোল করার আসল কাজে বাজিমাত করেছে জাবি আলোনসোর দল।

হাঁটুর চোটে কিলিয়ান এমবাপ্পে বাইরে থাকায় আক্রমণের কেন্দ্রে তরুণ গঞ্জালো গার্সিয়ার ওপরই ভরসা রাখেন আলোনসো। গত রোববার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। গতকাল রাতেও বেশ ভালো ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে ফাইনালে গার্সিয়া খেলবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ, এমবাপ্পে ফাইনাল খেলার জন্য প্রস্তুত বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ আলোনসো। এদিন দারুণ ছন্দে ছিলেন ম্যাচের দ্বিতীয় গোল করা রদ্রিগোও। টানা ৩২ ম্যাচ গোলশূন্য থাকা রদ্রিগোর এটি ছিল শেষ পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় গোল।
ম্যাচ শেষে মুভিস্টারকে ভালভের্দে বলেন, ‘অনেক দিন গোল না পাওয়ায় আজ গোলটা খুব দরকার ছিল। দলকে জিততে সাহায়তা করতে পেরে ভালো লাগছে।’ তবে উরুগুয়ে তারকা আত্মসমালোচনাও করেন, ‘আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু ওদের সুযোগ আরও বেশি ছিল এবং ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এগুলো ঠিক করতে হবে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top