বিপিএলের আসন্ন দ্বাদশ আসরকে সামনে রেখে প্রস্তুতির ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছে সব দল। নতুন মালিকানা ও নতুন পরিচয়ে এবারের বিপিএলে অংশ নিতে যাচ্ছে সিলেট টাইটান্স। নতুন যাত্রায় দলটি বেছে নিয়েছে আত্মবিশ্বাসী স্লোগান— ‘ইবার কিন্তু অইযিবো’, যার অর্থ এবার কাজটা সত্যিই হয়ে যাবে। এই স্লোগানের মতোই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নিজেদের ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএল অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত টাইটান্সরা।
দলের তারকা পেসার এবাদত হোসেন, যিনি নিজেও সিলেটের সন্তান, শিরোপা জয়ের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। মঙ্গলবার অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দলের ভেতরের পরিবেশ ও প্রস্তুতি তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
এবাদত বলেন,
“আমাদের এবারের থিমই হচ্ছে— ‘ইবার কিন্তু অইযিবো’। এই থিমটা শোনার পর থেকেই একটা পজিটিভ ভাইব কাজ করছে। মনে হয়, ইনশাআল্লাহ এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। আল্লাহ সাহায্য করলে শিরোপা সিলেটেই আসবে।”
দলের স্কোয়াড নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই ডানহাতি পেসার। বোলিং ইউনিটকে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হলেও ব্যাটিং বিভাগকেও কোনো অংশে পিছিয়ে রাখতে চান না তিনি। এবাদতের মতে, দলটি ভারসাম্যপূর্ণ একটি কম্বিনেশনে গড়া।
তিনি বলেন,
“লোকাল ও বিদেশি খেলোয়াড় মিলিয়ে সিলেট খুব ভালো একটা দল। সিনিয়র-জুনিয়র আর ফরেইনারদের কম্বিনেশন দারুণ। বোলিং আর ব্যাটিং— দুটোই প্রায় সমান। ৬০-৪০ বলা যাবে না, ফিফটি-ফিফটি। তবে বোলিং ইউনিটটা হয়তো একটু এগিয়ে। আমির ভাই আছেন, খালেদ, শহিদুল, রুয়েল— সবাই পারফর্মার। আলহামদুলিল্লাহ, দলটা খুব ভালো হয়েছে। সবাই যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।”
এবারের বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের বড় আকর্ষণগুলোর একটি পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমির। তার দলে যোগ দেওয়ায় উচ্ছ্বাস লুকাননি এবাদত। আমিরের অভিজ্ঞতা তরুণ বোলারদের জন্য বড় সম্পদ হবে বলেই মনে করেন তিনি।
এবাদত বলেন,
“আমরা আমিরের কাছ থেকে নেওয়ার চেয়ে তিনি আমাদের দলকে যা দিতে পারেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে তার প্রায় ৪০০ উইকেট আছে, বিশাল অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা যদি তিনি দলের হয়ে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হব। আশা করি, তিনি তার সেরাটা দেবেন।”
সব মিলিয়ে নতুন পরিচয়, শক্তিশালী দলগঠন ও ইতিবাচক মানসিকতা— সবকিছু একসঙ্গে নিয়ে বিপিএলের দ্বাদশ আসরে শিরোপা স্বপ্ন দেখছে সিলেট টাইটান্স। এখন অপেক্ষা মাঠের পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।



