বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মিললেন। আজ শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাইলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিগত বছরগুলোতে সংবাদমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিপীড়িত হলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ নতুন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জেগে উঠেছে। এই নতুন বাংলাদেশে উগ্রবাদ মোকাবিলা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যমকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা তাঁদের বক্তব্যে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। আজ শনিবার রাজধানী বনানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অনুষ্ঠানে এসে তারেক রহমান সম্পাদকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও উদ্বেগের কথা শোনেন।যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় জানতেন না তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর জানাজায় অবিস্মরণীয় লোকসমাগমই তা প্রমাণ করেছিল। এরপর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও আমরা দেখেছি। বর্তমানের সমীক্ষাও বলছে, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। তবে এই জনপ্রিয়তা ও আগ্রহকে ভোটে পরিণত করে ক্ষমতায় যেতে হবে।’শফিক রেহমান সুনির্দিষ্ট দুটি প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেন আর কখনো বিলিয়ন ডলার চুরি না হয়, সে জন্য এখনই স্পেশাল কমিটি করা উচিত। দ্বিতীয়ত, পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতায় শিক্ষিত করতে হবে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য আলাদা আইন না করে বর্তমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি।ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ক্লাইমেট চেঞ্জ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অবস্থা ভয়াবহ। এ ছাড়া আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার উত্তোলন করতে করতে এমন পর্যায়ে গেছি যে পানির স্তর ৬০০ ফুট নিচে নেমে গেছে। আমাদের নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। আগামী রাজনীতিতে এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতির সংকট তুলে ধরে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা অনেকটাই স্বাধীন, আবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। এই নিয়ন্ত্রণ আসছে মব ভায়োলেন্স থেকে। যখন সংবাদপত্রের অফিসে আগুন দেওয়া হয়, তখন ভাবতে কষ্ট হয় আমরা বেহেশতে আছি, না জাহান্নামে। তারেক রহমান সাহেব পশ্চিমা বিশ্বে মিডিয়া চলাচলের সংস্কৃতি দেখে এসেছেন, আশা করি তিনি সেই পরিবর্তন আনবেন। বর্তমানে যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করতে চাইছে, তা থেকে দেশ মুক্ত করতে তাঁর নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।’নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চায়, তবে তাদের দায় হচ্ছে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগের তুলনায় সংবাদমাধ্যম বেশি সহনশীলতা পেয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান মানুষের মননে যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে, সেখানে আর কোনো পুরোনো জমানার নিয়ন্ত্রণ চলবে না। কোনো দল ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র এই জবাবদিহি জারি রাখতে হবে।’আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেননি আসলে কী হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় পক্ষের কথাকেই ইতিহাস হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন, যে কারণে তিনি ব্যর্থ হন।’ তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনার চারপাশের লোকজন আপনাকে যা বলছে, আপনি সেটাই শুনছেন। কিন্তু ১৭ বছরের প্রকৃত ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি আপনার কাছে বর্ণনা করব।’অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তারেক রহমান সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়। এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।’এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইন

