প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬
রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর মহানগর ও জেলা নেতাদের ওপর মহানগর ছাত্রশক্তির কিছু নেতার হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবশক্তির নেতাদের অনুসারে, তাঁরা দাবি করছেন যে তাঁদের পাঁচজন নেতা-কর্মীকে হামলা করা হয়েছে। দুজন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন, আর তিনজন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর নগরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে আয়োজন করা হয়েছিল। ইফতার মাহফিলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দীন পাটওয়ারী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরের এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কিছু নেতার সাথে কথা হয়েছে, এই ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম গেটে অভ্যর্থনার দায়িত্ব ছিল রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের। এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছায় যুবশক্তির পাঁচ কর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড অনুপস্থিত ছিল। ছাত্রশক্তির নেতাদের তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তাদের ঢোকায়া যাওয়া হয়েছিল। তখন ছাত্রশক্তির নেতাদের মধ্যে তীব্র বৈঠক শুরু হয়েছিল।
আলমগীর নয়নের অভিযোগ, ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর (ফাহিম), যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিমুজ্জামান হৃদয়সহ কয়েকজন গেটে তাঁকে দুই দফায় ধাক্কা মারে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে যুবশক্তির জেলা কমিটির সংগঠক রাশেদুজ্জামান ও বদরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আকাশ ইসলামকে মারধর করা হয়।
রংপুর মহানগরের ছাত্রশক্তির নেতাদের অভিযোগ, যে হামলাটি হয়েছে, তার প্রতিবাদ করার কারণে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের পর যুবশক্তির মহানগরের সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকিরকে দুই দফায় ফারহান তানভীর, রাজিমুজ্জামান হৃদয়, যুগ্ম সদস্যসচিব মেহেদী হাসান, সংগঠক নাঈম, জেলা কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য তাহমীদ, যুগ্ম সদস্যসহ কয়েকজন মারধর করেছিলেন।
রংপুরের বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে টেবিলের কাঠ দিয়ে মারধর করার এক পর্যায়ে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে স্টেডিয়ামের মাঠে গিয়ে পড়ে যান। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন জেলা যুবশক্তির সংগঠক লেমন শাহ, জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক সীমান্ত হোসেনসহ চার-পাঁচজন। মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ ছাড়াও লেমন শাহ ও রাশেদুজ্জামান কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
যদি অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইচ্ছুক হন, তাহলে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ফারহান তানভীর প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। এটা নিয়ে আমাদের হাউসে মিটিং হচ্ছে। এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট (বক্তব্য) দেওয়ার কিছু নেই। তেমন কিছু হয়নি ওখানে। মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে।’
রাজিমুজ্জামান দাবি করেন, যেহেতু হামলা অথবা কারও গায়ে আঘাত হয়নি, সেজন্য এই ঘটনা আসলেই ঘটেনি। এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আমরা নিজেদের মধ্যে এই ধরনের কথা বলাবলি করে মীমাংসা করতে পারি। আমাদের এই বিষয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেয়া হবে। রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘যারা এই অবিচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’


