জয়ী হলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে বলে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হলে, সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী করা হবে। তাঁরা হাতে হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করবেন।জামায়াতের আমির আরও বলেন, যে নাহিদ ইসলামকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে, এই নাহিদ ইসলামরা আগামীতে বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট, ক্যাপ্টেন হিসেবে বসে যাবে। আর তাঁরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হিসেবে বসবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাবে।আজ রোববার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।জনগণ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও দখলদারদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছি—আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কষ্ট তো বোঝার কথা। কিন্তু দেখা গেল, বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়ে গেছে।’জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাঁরা শুধু ঢাকা-১১ আসনের জন্য নয়, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি এবং ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকের হকের ওপর পাহারাদারি করবেন। জাতির ভাগ্য বদলের জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট বলেন তিনি।শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঘরেও নেই, রাস্তায়ও নেই, কর্মস্থলেও নেই। তিনি বলেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে এটিই নিশ্চিত করা হবে।বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণেরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও।’জামায়াত আমির আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে।জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বকেও প্রত্যাখ্যান করবে—বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে অপকর্মের মাধ্যমে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, একই ধরনের কর্মকাণ্ড ৬ আগস্টের পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে।

