ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে কলেজে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ‘মব সৃষ্টি করে’ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে আজ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। যার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রশাসন এবং দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিছন্নতাকর্মী এবং আয়ার নিয়োগের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ছিল ওই পদ দুটির নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলার সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ইউএনওর কার্যালয়ে এসেছিলেন। সে সময় জামাল উদ্দিন নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদলের নেতা মো. ফারুক, মোখলেসুর রহমান সহ ২৫ থেকে ৩০ নেতা-কর্মী। তাঁরা ইউএনওর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে কার্যালয় থেকে সরে গেছেন।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, হরিপুর উপজেলার বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন বলছেন, “আমি আমার মহাসচিবের সাথে এই বিষয়ে আলাপ করে গাড়িতে উঠেছি। রাতের বেলায় অফিসে কিছু কিছু ক্লাইন্টকে নিয়ে এসেছি…।” কথা শেষ হতেই ইউএনও বলেন, “রাতের বেলায় আমি অফিসে কাজ করব, তা তো আমার নিজের দায়িত্ব। আমাদের অফিস চব্বিশ বাজে থেকে সাতটা।”

জামাল বলেন, ‘আপনি নিয়োগ পেয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন।’ এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি অফিসে দিনে বা রাতে কাজ করেন, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। এর আগে ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মন ছিল এখানে, তাকে আমরা সেভ করেছি।’ সে সময় ইউএনও বলেন, ‘এই মৌলিক কাজ করে তখনো, কিন্তু এ রকম প্রথা ছিল না।’ জামাল বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দিলেন, এটা কোনোভাবেই স্বীকার্য না।’ ইউএনও বলেন, ‘অধ্যক্ষ যদি অনৈধ কোনো কাজ করেন, তাহলে বোর্ডকে জানান, নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া হবে, এটি আমাদের জন্য কোথায় দুর্বলতা?’ সে সময় জামাল বলেন, ‘আমরা এই কথাটি পূর্বেও বলেছি, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দিবেন না, আমরা এই ধরনের আদেশ মেনে চলবো না।’

হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য পয়সা লেনদেন করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে চারজনের নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। এটার প্রতিবাদ করতে ছেলেরা সেখানে গিয়েছিলেন। তখনই ইউএনও তাদেরকে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। তারা বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।’ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পরে কাগজপত্রগুলো ইউএনও অফিসে ফেলে আসা হয়।ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে মব বাহিনী নিয়ে পরীক্ষাটি বন্ধ করার দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় তাঁরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। একপর্যায়ে কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। এই ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top