‘অলংকার’ বা ‘অনুগ্রহ’ হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে চায় না জামায়াত

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিএনপি বিষয়টিকে ‘উদারতা’ হিসেবে প্রচার করলেও জামায়াত বলছে, ‘অনুগ্রহ’ বা ‘অলংকার’ হিসেবে তারা এই পদ নেবে না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল বুধবার সকালে বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি প্রকাশ করেছে যে, তারা বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাবকে ‘উদারতা’ হিসাবে বিবেচনা করছে। গত শুক্রবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও, জামায়াতে ইসলামীরও এই প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিএনপি উদারতা দেখানোর চেষ্টা করেছে। জামায়াতেরও উদারভাবে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা উচিত।

জামায়াত মনে করছে, বিএনপির প্রস্তাবটি এক রকম সান্ত্বনা। তারা বিএনপিকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বলেছে। এরপরে জামায়াত ডেপুটি স্পিকার নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, ‘জুলাই সনদ এবং গণভোট অনুযায়ী প্রতিশ্রুত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হলে বিরোধী দল শুধু অলংকার হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করবে না ইনশা আল্লাহ।’

‘জামায়াত’ এবং ‘বিএনপি’ পার্টিগুলির ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ২৩ নম্বর প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে, আইনসভায় উচ্চ এবং নিম্ন কক্ষে (উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ) করে দুইটি কক্ষে একজন করে ডেপুটি স্পিকার সরকারি দলের সদস্য ছাড়াও অন্য সদস্যগণের মাঝে থাকতে পারবে। এই প্রস্তাবে বিএনপি এবং জামায়াত একমত ছিলো, কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি ছিলনা।ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার সাথে কথা বলেছেন জামায়াতের তিনজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে। তাঁরা জানিয়েছেন, বিএনপির মনোভাব হচ্ছে যে, সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ জামায়াতকে দয়াদাক্ষিণ্য দিতে হবে। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে বিরোধী দলের এই পদ স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া উচিত।

ওই নেতাদের জানান, কি ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করা হবে নাকি? আর সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কী হবে, এই সব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত হয়নি। বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটিতে এই সব বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

জামায়াতের একটি উক্তি বলে, সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জুলাই মাসে জাতীয় সনদে এই বিষয়টি প্রথমবারের মতো চরম আশ্চর্য করে প্রকাশ পাচ্ছে এবং বিএনপি কোনো আপত্তি প্রকাশ করে নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে কোনো চর্চা ছিল না। তবে নির্বাচনের পর বিএনপি প্রকাশ করছে, বিরোধী দলকে এই পদে মানবিকভাবে সম্মান দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি যদি তাদের এই দৃষ্টি ধারার কাছে অসন্তুষ্ট থাকে এবং জুলাই সনদের অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দেওয়া সম্ভাবনা নেই, তবে জামায়াত আবার বিষয়টি নতুন ভাবে বিচার করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে এই পদ গ্রহণ না করার সম্ভাবনা আছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেছেন, যুলাই জাতীয় সনদের আলোকে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের দুটি ডেপুটি স্পিকার পদই জামায়াত পাবে। শুনা যাচ্ছে, বিএনপি জুলাই সনদের আলোকে এই দুটি পদ দিবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোনো চিঠি বা প্রস্তাব আসেনি।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একটা কথা আমাদের জানাবেন, জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া হয়। বিএনপি এই শপথ নিয়েনি। বিএনপিকে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তারপরে জামায়াত ডেপুটি স্পিকার এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাবে। এছাড়া, বুধবার বিরোধী দলের বৈঠক থেকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রকাশ পাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top