এই সময় গলা ব্যথা হলে কী করবেন

প্রকৃতিতে এখন বসন্তকাল চলছে। শীত চলে গেলেও এখনও রাতে বা ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় আবার গরম লাগছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময় অনেকেই গলা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। কখনও আবার ঠান্ডা লাগা, ভাইরাল সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত চিৎকার করলেও গলা ব্যথা হতে পারে। ঘন ঘন ওষুধ খাওয়ার আগে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। 

গরম পানি- লবণ দিয়ে কুলিকুচি
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধ চা-চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলিকুচি করুন। এতে গলার ফোলাভাব কমে এবং ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। এটি সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।

মধু ও গরম পানি
এক কাপ গরম পানিতে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ গলার জ্বালা ও কাশি কমাতে সাহায্য করে।

আদা চা
আদা কুচি করে পানিতে ফুটিয়ে নিন, চাইলে সামান্য মধু যোগ করতে পারেন। আদার প্রদাহনাশক গুণ গলার ব্যথা ও খুসখুসে ভাব কমায়।

হলুদ দুধ
এক গ্লাস গরম দুধে আধ চা-চামচ হলুদ মিশিয়ে রাতে ঘুমের আগে পান করুন। হলুদে থাকা কারকিউমিন সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

বাষ্প নেওয়া
গরম পানির ভাপে মুখ ঢেকে ৫-১০ মিনিট বাষ্প নিন। এতে গলার শুষ্কতা কমে এবং শ্বাসনালির আরাম মেলে।

তুলসি পাতার চা
কয়েকটি তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। তুলসির প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক গুণ সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গলা শুকিয়ে গেলে ব্যথা বাড়ে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। গরম স্যুপ বা লেবু-মধু পানিও উপকারী।

গলার বিশ্রাম
অতিরিক্ত কথা বলা এড়িয়ে চলুন। গলাকে বিশ্রাম দিলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

তবে যদি গলা ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, সেই সাথে উচ্চ মাত্রার জ্বর, গিলতে অসুবিধা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাধারণ ক্ষেত্রে এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলোই দ্রুত আরাম দিতে পারে এবং গলা সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top