শান্তি পর্ষদের বৈঠকে গাজা পুনর্গঠন ও সেনা মোতায়েন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন ট্রাম্প

আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘বোর্ড অব পিস’ (বিওপি) বা শান্তি পর্ষদের এর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এ বৈঠকে গাজার জন্য কয়েক শ’ কোটি ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর সেনা মোতায়েনের বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের সভাপতিত্বে অনুষষ্ঠেয় এ বৈঠকে অন্তত ২০টি দেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে অনেক রাষ্ট্রের প্রধানও থাকবেন।

গত ২৩ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের নথিতে স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার মাধ্যমে স্বীকৃতি পায়।

প্রাথমিকভাবে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার অধীনে গাজা ভুখণ্ডের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য এই শান্তি পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তার সভাপতিত্বে এই পর্ষদ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে কাজ করবে।

ফলে এই পর্ষদ জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী সপ্তাহে শান্তি পর্ষদের বৈঠকটি শুধুমাত্র গাজা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে গাজা পুনর্গঠনে জন্য কয়েক শ’কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ঘোষণা। এই তহবিলে বোর্ড অব পিসের সদস্য দেশগুলো আর্থিক অবদান রাখবে।

এক কর্মকর্তা এই অনুদানকে ‘উদার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনও দেশকেই অনুদানের অনুরোধ করেনি, বরং দেশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

তাছাড়া কর্মকর্তারা আরও জানান, শান্তি পর্ষদের বৈঠকে ট্রাম্প এও ঘোষণা করবেন যে, বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) জন্য সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বাহিনী গাজায় মোতায়েন হতে পারে।

এই বাহিনীর প্রধান কাজ হবে গাজায় শান্তি বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে নিরস্ত্র করা। যদিও গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্র হওয়ার বিরোধিতা করছে হামাস।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের যেসব সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে, তাদের সাধারণ ক্ষমা করা হবে। আর যারা গাজা ত্যাগ করতে চায়, তাদের নিরাপদ বহির্গমনের সুযোগ দেওয়া হবে।

তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আঞ্চলিক ও উদীয়মান শক্তিগুলো বোর্ড অব পিস -এ যোগ দিলেও পশ্চিমা মিত্ররা এখন পর্যন্ত কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গত বুধবার ওয়াশিংটন সফরকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলও এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে।

বৈঠকে গাজার দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’-র কাজের অগ্রগতি এবং মানবিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হবে।

1 thought on “শান্তি পর্ষদের বৈঠকে গাজা পুনর্গঠন ও সেনা মোতায়েন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন ট্রাম্প”

Leave a Reply to Motaleb Sarker Cancel Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top