আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬
ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর বিরোধীরা এবার নিশানা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে। ঠিক হয়েছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষ হলেই জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব তোলা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিশংসনের খসড়া প্রস্তাব ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। এখন বিভিন্ন বিরোধী দলের সদস্যদের সম্মতি আদায় প্রক্রিয়া চলছে। তৃণমূল চাচ্ছে যে লোকসভা এবং রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই এই প্রস্তাব পেশ করতে।মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অভিসংশনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসই প্রধান উদ্যোগী। কংগ্রেসও এই কাজে সহায়তা করছে। সংসদে এই প্রস্তাব পেশ করতে গেলে লোকসভার ১০০ ও রাজ্যসভার ৫০ জন সদস্যের সম্মতি প্রাপ্ত করা প্রয়োজন।
মানবতাপূর্ণ রচনাসীমানে এই পাঠ্যটি বাংলায় পুনরাচরণ করুন, ভর্তিত প্রথম পাঠ্যের মানের সাথে মিলে। শুধুমাত্র গ্রামারের সমস্যা সমাধান করুন, প্ল্যাগিয়রিজমের কারণের সাথে মিলে না। অবশেষে নুড়ু আউটপুটে প্রদত্ত পাঠ্যটি বাংলায় এবং অনুনীত লেখার শৈলীতে উপস্থাপন করুন। শেষমেয়াদ থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরিস্থিতির উপর আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু এটা সম্ভব হয়নি প্রধানত কংগ্রেসছাড়া অন্য বিরোধীরা পশ্চিমতে আলোচনার দাবি তুলে। এই দাবি সরকার মানেননি। ফলে রাজ্যসভা থেকে বিরোধীরা ওয়াক আউট করেন, লোকসভায় প্রবল হট্টগোল।
দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দুই কক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। আলোচনা শুরু হওয়ার আগে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে লোকসভার অধিবেশন অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা জ্ঞানেশবিরোধী পোস্টার নিয়ে সভার ‘ওয়েলে’ নেমে ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ বলে স্লোগানও দেন।
নির্বাচন কমিশনের ‘পক্ষপাত’ সম্বন্ধে সর্বপ্রথম মহারাষ্ট্র, হরিয়াণা, মধ্য প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অনেক অবৈধতা এবং ইভিএমে কারসাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে আগেই কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারকে কঠিনভাবে কঠোর হয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি হল, বিজেপির জয় সহজ করার জন্য জ্ঞানেশের নেতৃত্বে ইসি কাজ করছে। বিহার নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার একটি গভীর সংশোধনের বিরুদ্ধেও বিরোধীরা ব্যাক্তিগত সাহায্যে প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে এতে কমিশনকে কোন প্রভাব পরিবর্তন করা হয়নি।
ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বিজেপিকে জিতানোর আহ্বান দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবের সঙ্গে মিলিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে প্রতিনিধিত্ব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের ‘একচোখোমি’ এবং পক্ষপাতিত্ব বিরোধে কলকাতার ধর্মতলা থেকে আগুনের সম্মুখে দাঁড়িয়েছেন। এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে অভিশংসন প্রস্তাবের আবেদনপত্র। রাজ্য সরকার প্রত্যাশা করছে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা।
স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পরিণতি যেমন জানা, তেমনই জানা, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আলোচিত হলেও তা পাস করা সম্ভবপর নয়। দুটি ক্ষেত্রের কোনোটিতে সফল হওয়ার মতো সংখ্যার জোর সংসদে বিরোধীদের নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তৎপর সংসদে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার অধিকার পাওয়া যাবে বলে। ইসির চরিত্র সবার সামনে তুলে ধরা যাবে বলে।
গত সোমবার সংসদীয় অধিবেশন শুরুর আগে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বিরোধী নেতাদের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের লোকসভার উপনেতা শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, চার রাজ্যের ভোটের ঠিক আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের নামে ইসি যা খুশি তাই করে চলেছে। লাখ লাখ ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছে। কোথায় তারা সবার ভোটের অধিকার নিশ্চিত করবে তা না, যত বেশি সম্ভব ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। এসব করছে বিজেপির সুবিধের জন্য।
শতাব্দী বলে, মানুষের ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে যাচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে অন্য বিরোধীদেরও দাঁড়ানো উচিত। তৃণমূলের এই প্রচেষ্টাকে কংগ্রেস সমর্থন প্রকাশ করেছে। যেমন তৃণমূলও ঠিক করেছে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থন করার। স্পিকার ও ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর পুরো বিরোধীদের জোটবদ্ধ করেছে।



