ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার পেছনের কারণ জানাচ্ছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁ বলেছেন, চুক্তির সব কিছু ঠিক হওয়ার পরও হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করা ছাড়াই চুক্তি টা নিষ্প্রাপ্ত হয়ে গেছে।আজ শুক্রবার প্রিয় মার্কিন পডকাস্ট ‘অল ইন’ এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান লুটনিক। এ সময় তিনি বলেন, ভারতের আলোচকেরা চুক্তি চূর্ণ করতে এসেছিলেন, কিন্তু সময়ে ওয়াশিংটন এ সংশোধন করে দিয়েছে।লুটনিকের এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে যে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে, তবে শেষ মুহূর্তে মার্কিন আলোচকেরা পিছিয়ে যাচ্ছে।লুটনিক জানান, ভারতকে তিন সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চূড়ান্ত করতে এসেছে পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তির সব কিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু এটি সেই দিনের। তিনিই এটি চূড়ান্ত করেন। তাই আমি বলেছিলাম, মোদিকে ফোন করতে হবে। সব প্রস্তুত। মোদি যেন প্রেসিডেন্টকে একটা ফোন করেন। কিন্তু তারা এতে বাধ্য হয়নি এবং মোদিও ফোন করেননি।’মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী এমন এক সময় এসব বলেছেন, যার আগের দিনই রিপাবলিকান নেতা ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে সায় দিয়েছেন। বিলটি পার হলে রুশ জ্বালানি তেলের ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন ট্রাম্প।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যে ভারত ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আগে থেকেই রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত। এসব শুল্ক ভারতের বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।লুটনিকের মতে, ভারত সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তির ধরন হলো সিঁড়ির মতো, যে দেশ প্রথম ধাপে চুক্তি করবে, সেই দেশ সবচেয়ে ভালো সুবিধা পাবে। যুক্তরাজ্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় বলে তারা সেরা চুক্তিটি পেয়েছে।লুটনিক আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পর ভিরামপর্বত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন দ্রুত চুক্তি করে ফেলে। আমরা ভারতকে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা চুক্তি করার সময় শেষ হওয়ার পর। ভারত যখন সেই পুরানো শর্তে চুক্তি করতে চায়, আমি তাদের বললাম – সেই সময় এখন আর নেই। ট্রেন অনেক আগেই স্টেশন ছেড়ে চলেছে।’


