মিনিয়াপোলিস থেকে সরানো হচ্ছে বিতর্কিত অভিবাসন কর্মকর্তা বোভিনোকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন বিরোধী অভিযানে রদবদল হচ্ছে। মিনিয়াপোলিস থেকে শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা ও অভিযানের কমান্ডার গ্রগোরি বোভিনোকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে অভিযানে এই রদবদল হচ্ছে। বেভিনোকে ক্যালিফোর্নিয়ায় তার আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে তিনি শিগগিরই অবসরে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার থেকে কমান্ডার বোভিনো এবং তার অধীনে থাকা কিছু অভিবাসন কর্মকর্তা মিনিয়াপোলিস ত্যাগ করবেন। বোভিনোর জায়গায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী অভিযানে মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিচ্ছেন ‘সীমান্ত সম্রাট’ টম হোম্যান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রদবদলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের আগ্রাসী অবস্থান কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কমান্ডার গ্রেগোরি বোভিনো অভিযানের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন অভিবাসীদের আতঙ্কের নাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

গত শনিবার দ্বিতীয় মার্কিনি অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহতের পর বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেট্টি ফেডারেল এজেন্টদের নির্বচারে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। আত্মরক্ষার্থে অভিবাসন কর্মকর্তা গুলি ছুড়েছেন।

তবে বিবিসি ভেরিফাই সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রেট্টির হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না; তিনি কেবল ফোন দিয়ে কর্মকর্তাদের ভিডিও করছিলেন।

বোভিনোর এমন ভিত্তিহীন দাবি এবং এজেন্টদের মারমুখী আচরণ মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় বিক্ষোভের আগুন আরও উসকে দিয়েছে। বোভিনোর অভিযানের কৌশল বেশিরভাগই আক্রমণাত্মক বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন রেনি গুড (৩৭)। গত শনিবার নিহত হন অ্যালেক্স প্রেত্তি (৩৭)। তারা দুজনেই মার্কিন নাগরিক ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন (২৫ লাখ) অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার বা তারা স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতে, এই সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

গত ডিসেম্বর থেকে মিনেসোটায় শুরু হওয়া এই অভিযানে বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ ফেডারেল এজেন্ট মিনিয়াপোলিসে মোতায়েন রয়েছে।

মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে সরাসরি এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও ফাটল দেখা দিয়েছে।

সোমবার মিনেসোটার গভর্নর পদপ্রার্থী রিপাবলিকান নেতা ক্রিস ম্যাডেল এই অভিযানকে ‘চরম বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

গভর্নর ওয়ালজের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না এবং তিনি এজেন্টের সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মিনিয়াপোলিসের ‘বিশৃঙ্খলা’ বন্ধ করতে চান।

সীমান্ত সম্রাট টম হোম্যান ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক। তবে অভিবাসনের বিষয়টিতে তার কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে।

টম হোম্যান এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অভিবাসন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি জটিলতা ও বিক্ষোভ সামলে অভিযানের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

1 thought on “মিনিয়াপোলিস থেকে সরানো হচ্ছে বিতর্কিত অভিবাসন কর্মকর্তা বোভিনোকে”

Leave a Reply to Motaleb Sarker Cancel Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top