বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, চলমান বিক্ষোভে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, প্রাণহানির পাশাপাশি অন্তত ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে নরওয়েভিভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) দাবি করেছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৫১ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে ৯ জন শিশু। বিবিসি ফারসি নিহত এমন ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে ইরানের ভেতরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুরো পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা দ্রুত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই এখন সরাসরি সরকার পতনের দাবি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মতে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় হতাহত ও গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ চলাকালে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন, মেট্রো স্টেশন, ব্যাংক, বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকেও সমর্থনমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের চলমান বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর তিনি ইরান নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির ইন্ধনে কাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ১৩তম দিনে ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ শতাধিক শহরে শিক্ষার্থী, তরুণ, নারী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সূত্র: মিন্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top