আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬
আর্টেমিস-২ অভিযানের চারজন নভোচারী গতকাল সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ৩টা ৫৮ মিনিটে যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছেন, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল ছিল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্যে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে আর্টেমিস-২ অভিযান।
পূর্বের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগে। আল–জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো–১৩ মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিল। তারা ওই সময়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিল।
এই চার নতুন অনুসন্ধানকারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির। চাঁদের পেছনে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে আবার যোগাযোগ স্থাপনের পর ক্রিস্টিনা কোচ উদ্বোধন করেন, ‘পৃথিবী থেকে আবার শব্দ শুনতে পাওয়াটা খুব আনন্দদায়ক।’
নভোচারীদের সেখানে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছিল। আর্টেমিস–২ অভিযানে থাকা ওরিয়ন নভোযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অপার্থিব লেগেছে।’ তাঁরা এ নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতে মানুষ ভেঙে দেবার আশা প্রকাশ করেছেন আর্টেমিস–২–এর নভোচারীদের। আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। ১০ দিনের অভিযানে তাঁরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।
মানবজনিত এই পরীক্ষামূলক যাত্রার প্রধান লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাত্রা শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দূর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবারও নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।



