প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফ্রান্সে নিয়োগ পাওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারের বিরুদ্ধে দেশটির মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিকভাবে ফ্রান্সের একজন অতি-ডানপন্থী অ্যাকটিভিস্ট নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে কুশনারকে প্যারিসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল, তবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সোমবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বাণিজ্য শুল্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউরোপের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ চলছে যা প্যারিস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের মৌলিক বিষয়সমূহ এবং নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মানের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে মন্ত্রী (জ্যঁ-নোয়েল বারো) অনুরোধ করেছেন, রাষ্ট্রদূত কুশনার যেন ফ্রান্স সরকারের সদস্যদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই রাষ্ট্রদূত তাঁর অন্যান্য কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে থাকবেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ বজায় রাখতে পারবেন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ফ্রান্সে ২৩ বছর বয়সী একজন কট্টর ডানপন্থী অ্যাকটিভিস্ট কোয়েন্টিন ডেরানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বামপন্থী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে এসে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনা পুরো ফ্রান্সকে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ডেরানকের মৃত্যুর বিষয়ে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মন্তব্য গত রোববার পুনরায় পোস্ট করে প্যারিসের মার্কিন দূতাবাস। এরপরে কুশনারকে তলব করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তলবে সাড়া দিয়ে সরাসরি হাজির হননি কুশনার। বরং ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠান তিনি।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের আসতে না পারাকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে কুশনারের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে এর ব্যাখ্যা নিতে হবে। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র এসে আমাদের জাতীয় রাজনৈটিক বিতর্কে অনধিকার চর্চা করবে, নিজেদের আমন্ত্রণ জানাবে, তা আমরা মেনে নেব না।’তিনি আরও বলেন, ‘যখন এই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, তখন ফ্রান্সে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্বাভাবিকভাবেই ফরাসি সরকারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ ফিরে পাবেন।’ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাড়া না দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইহুদিবিদ্বেষ দমনে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, কুশনারের এমন বক্তব্যে ফ্রান্স সরকার আপত্তি জানানোর পর ২০২৫ সালের আগস্টেও তাঁকে মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেবারও কুশনারের পরিবর্তে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন।রাষ্ট্রদূতের ওপর আরোপিত এসব পদক্ষেপের বিষয়ে প্যারিসের মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।




নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না আমেরিকা