পারমাণবিক স্থানান্তর ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্ততায় দ্বিতীয়বারের মতো উভয় দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ দিবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার জন্য সুইজারল্যান্ড সর্বদা তার সদিচ্ছা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর তার সামরিক হুমকি কেন্দ্রীভূত করেছেন, যা গত জুনে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের অভূতপূর্ব ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনী আঘাত করেছিল।
এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনই হবে ‘সর্বোত্তম ঘটনা’।
উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইরানের বিপ্লবের এক বছর পর ১৯৮০ সালের জিম্মি সংকটের পর ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে নিরপেক্ষতার জন্য বিখ্যাত সুইজারল্যান্ড ইরানে মার্কিন স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।
তথাকথিত সুরক্ষাকারী শক্তি হিসেবে সুইজারল্যান্ড কয়েক দশক ধরে দুই বিবাদমান দেশকে ন্যূনতম কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্ক বজায় রাখার অনুমতি দিয়ে আসছে। তেহরানের সুইস দূতাবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমস্ত কনস্যুলার বিষয় পরিচালনা করে, যার মধ্যে রয়েছে পাসপোর্টের অনুরোধ, নাগরিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ইরানে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সুরক্ষা ক্ষমতার আদেশের অধীনে, সুইজারল্যান্ড হয় নিজস্ব উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিতে পারে অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুরোধে এই ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট সকলেই একমত হন।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।



