কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচন সংস্কারের হুমকি ট্রাম্পের

কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন ভোটিং আইন জারি করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেস যদি ভোট দিতে ছবি-সম্বলিত পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি) বাধ্যতামূলক করার আইন পাস না করে, তবে তিনি নির্বাহী আদেশ জারি করে তা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘কংগ্রেস অনুমোদন করুক বা না করুক, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার আইডি থাকবে!’

তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেসের মাধ্যমে সম্ভব না হলে, এটি অনুমোদিত না হওয়ার আইনি কারণ রয়েছে। খুব শিগগিরই আমি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করব।’

এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অনেক জায়গায় ভোট দিতে ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হলেও সব জায়গায় নয়। ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা দাবি করেন, যেখানে এমন বাধ্যবাধকতা নেই সেখানে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা’ নির্বাচন সংস্কার বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে, যেখানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই কম হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিলে ভোট দিতে ছবি-সম্বলিত পরিচয়পত্রের পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ লাখো ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে, কারণ অনেকের কাছে পাসপোর্ট বা জন্মসনদের কাগজপত্র নেই। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টারের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই কোটির বেশি আমেরিকানের কাছে এ ধরনের নথি সহজলভ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক ভোটার আইডি কার্যকর করবেন, তা স্পষ্ট নয়।

৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প অতীতেও ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সে সময় তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন, যদিও আদালতগুলো তার অভিযোগ খারিজ করে দেয়।

মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তারা ট্রাম্পের নীতিমালা আটকে দেওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

সূত্র : এএফপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top