ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে নারাজ যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর দাবি, লন্ডনের এই অসম্মতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মূলত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটনকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি দিচ্ছে না যুক্তরাজ্য। তেহরানকে নতুন করে পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য ট্রাম্প ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরপরই এই টানাপড়েন সামনে এলো।
বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়াগো গার্সিয়া এবং গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মূল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, কোনো দেশ সরাসরি বা আসন্ন হামলার শিকার না হলে কেবল আত্মরক্ষার খাতিরেই শক্তি প্রয়োগ করা বৈধ। তবে অতীতে ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে লন্ডনের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকায় এই যুক্তি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলো মনে করছে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে ট্রাম্পের হঠাৎ আপত্তির পেছনেও এই ঘাঁটি ব্যবহারের বিরোধ কাজ করছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ব্রিটেন যেন দ্বীপপুঞ্জটি হস্তান্তর না করে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হতে পারে এবং লন্ডনের এতে সহযোগিতা করা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তারা নিজেরা কোনো যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে আক্রান্ত হলে তার কড়া জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। এই পরিস্থিতিতে দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপড়েন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: আরটি



