ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে, বিবিসি জানিয়েছে, দেশের অন্তত তিনটি হাসপাতালে বিক্ষোভের ফলে নিহত এবং আহত রোগীদের চিকিত্সা করা হচ্ছে। একটি হাসপাতালে মেডিকেল কর্মী জানান, তরুণদের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। আরেকজন বলেন, রাজধানীর একটি চোখের হাসপাতালে ‘সংকটকালীন’ অবস্থায় চলে গেছে।
বিভিসির সাক্ষাৎকারে দুই চিকিত্সক জানান, গুলি ও পেলেট দিয়ে ছোড়া গুলির ক্ষত নিয়ে আসা আহতদের চিকিত্সা করা হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর দেশটির সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে শতাধিক শহর ও জনপদে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত শত শত বিক্ষোভকারী নিহত বা আহত হয়েছেন এবং আরও অনেককে আটক করা হয়েছে। বিবিসি পারসিয়ান অন্তত ২৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু।
বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা অন্তত ১৪। ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বিক্ষোভকে ‘মহিমান্বিত’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বিক্ষোভ ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া গণআন্দোলনের পর সবচেয়ে ব্যাপক বলে মনে করা হচ্ছে। তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজার আটক হয়েছিল।



