প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬
রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান সরকারের সাথে কোনো চুক্তি না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা। তাঁর মনে এই সরকারের সাথে চুক্তি করা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার জোখেমে পড়তে পারে। রেজা পাহলভি হলেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহ পলাতক প্রাণাতিত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির ছেলে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
গতকাল শনিবার টেক্সাসে রক্ষণশীল রিপাবলিকান সংগঠন কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপিএসি) বার্ষিক সম্মেলনে রেজা পাহলভি এ কথা বললেন। তিনি মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন। এ সময়ে তিনি ইরানকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানি জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রতি দুই বছর অন্তর ইরানের হুমকির মুখোমুখি হতে চান না বলেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী এ মন্তব্য প্রকাশ করেছেন, বর্তমান নেতৃত্বের সাথে আলোচনা একই বিপদে পুনরাবৃত্তির সুযোগ দেয়। ইরানের নুতন সরকারের শাসনব্যবস্থা শুধু সময়ক্ষেপণ, প্রতারণা এবং লুটপাটের ওপর নির্ভর করেছে। এগুলি শান্তির পথে সৎ সঙ্গী হতে পারে না। আলোচনার দ্রুতি হতে পারে, কিন্তু পরে আবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি করবে। পাহলভি এই ছেলের দেশে ফিরে এবং নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্য নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর মতে, ইরানের ভেতর থেকে কেউ উঠে এলে সেটা বেশি কার্যকর হতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং নিজ দেশে প্রেসিডেন্ট হিসাবে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় যুদ্ধের এক মাসের মাথায় কঠিন সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁকে হয় একটি নড়বড়ে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, নয়তো দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে হবে। পাহলভির বাবা রেজা শাহ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার হিসেবে ছিলেন বলে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। ইরানের স্বার্থের চেয়ে তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ইরানের তেলসম্পদকে তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেন।বক্তব্যে রেজা পাহলভি মার্কিন স্বার্থের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কল্পনা করুন—ইরানের মানুষ ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ বলার বদলে ‘ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল করুন’ বলছে। একটি মুক্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে বলেও মত দেন তিনি.



