ইরানি প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, দেশটির সাধারণ জনগণের চলমান ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
আরাঘচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে বিক্ষোভের ভেতর হস্তক্ষেপ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং তাদের এই উসকানির কারণেই পরিস্থিতি শান্ত থেকে অশান্ত হয়ে উঠেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে সরাসরি কোনো বহিঃশক্তির হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইরানের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে ইরানি রিয়েলের ক্রমাগত দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের প্রধান বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরা জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন, তা দ্রুতই রাজনৈতিক আন্দোলনে মোড় নেয়।
বর্তমানে দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্দোলনকারীরা কার্যত পুরো দেশ অচল করে দিয়েছেন। বিক্ষোভ দমাতে ইরান সরকার ইতিমধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ দিনের এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত চারবার তেহরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছে।
আরাঘচি এই পরিস্থিতিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন যে, এমন অভিযানের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তেহরানের রাজপথ রক্তাক্ত সংঘর্ষে উত্তাল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার বিক্ষোভকে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ মূলত আকাশচুম্বী পণ্যমূল্য ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দিকেই নির্দেশ করছে।
আরাঘচি মনে করেন, বিদেশি শক্তিগুলো জনগণের যৌক্তিক দাবিকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বর্তমানে ইরানের ভবিষ্যৎ এই আন্দোলন ও সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যকার এক কঠিন দ্বন্দ্বে ঝুলে আছে।
সূত্র: এএফপি




ইরানি প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, দেশটির সাধারণ জনগণের চলমান ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে সহিংস রূপ ধারণ করেছে।