ইরানকে কঠিন শর্তের বেড়াজালে বাঁধছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিলেও সামরিক চাপ এবং কঠোর শর্ত থেকে পিছু হটছে না। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যদি যোগাযোগ করতে চায় তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য প্রস্তুত বা ‘ওপেন ফর বিজনেস’। 

তবে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য তেহরানকে আগে থেকেই নির্ধারিত কঠোর শর্তগুলো মেনে নিতে হবে। ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতা এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় ওয়াশিংটন এই দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছিলেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না, তবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তিনি তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানে বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা এবং নিহতের সংখ্যা কমেছে বলে তিনি তথ্য পেয়েছেন। এরই মধ্যে সোমবার দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরান এই মার্কিন পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ওয়াশিংটন যেকোনো চুক্তির জন্য চারটি মূল শর্ত দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ নির্মূল করা, ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা। এসব শর্ত ইতোমধ্যে ইরানের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ইরানের ওপর হামলার বিকল্পটি এখনো তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে আরও পরামর্শ করবেন এবং তাকে নতুন সামরিক বিকল্পগুলো দেখানো হবে। 

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে, যার মূল লক্ষ্য হবে সমুদ্রপথে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলা। সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং কঠোর শর্তের এই বেড়াজালে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র: সামা টিভি।

1 thought on “ইরানকে কঠিন শর্তের বেড়াজালে বাঁধছেন ট্রাম্প”

Leave a Reply to Motaleb Sarker Cancel Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top