আ.লীগ নির্ভরতা থেকে ভারত কি সরবে?

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা চলছে ১৬ মাস ধরে। গত ১০ দিনে তা রূপ নিয়েছে গভীর এক সংকটে। দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলব, বিবৃতি অব্যাহত আছে। পাশাপাশি দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়েছে।নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ফলে ভারতের দিল্লিসহ অন্তত চারটি স্থানে বাংলাদেশের ভিসা সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। ভারতও ঢাকাসহ চারটি স্থানে ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। সেটা এখানকার মতো এতটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল না। ওই সময় ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবেরা বৈঠক করেছিলেন। আবার বৈঠকের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে বিক্ষোভও হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বরের পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশে ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অব্যাহত উত্তেজনার ফলে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মমভাবে খুন হন পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই দিন রাতে দীপুকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক হারে নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রতি ভারতের সমর্থনেরও কোনো ছেদ পড়েনি। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে থাকা দলটির নেতা–কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সভা-সমাবেশে যুক্ত থেকেছেন। শেখ হাসিনাকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ করে দেয় ভারত। একপর্যায়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে সাক্ষাৎকারও দিতে থাকেন শেখ হাসিনা। এসব সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তাঁর এসব বক্তব্য-বিবৃতি বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে বলে সরকার মনে করে। তাই শেখ হাসিনাকে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের আগে–পরে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী হস্তান্তরের জন্য ভারতকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। দিল্লির সঙ্গে আলোচনায় ঢাকা এখন যুক্ত করেছে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গটি। ফলে শেখ হাসিনার পাশাপাশি হাদির হত্যাকারীকে ফেরত পাওয়ার ইস্যুটি দুই দেশের উত্তেজনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।অন্যদিকে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মমভাবে খুন হন পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই দিন রাতে দীপুকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের’ অভিযোগ তুলে এটি সামনে এনেছে দিল্লি। ফলে ইস্যুটি উপজীব্য করে ভিএইচপি ভারতজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেয়। সে অনুযায়ী সংগঠনটি এরই মধ্যে দিল্লি, মুম্বাই ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশনগুলোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছে।১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেদিন তাঁকে জানানো হয়, ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের দ্রুত অবসান চায় ঢাকা। হাদিকে হত্যার চেষ্টায় (তখন হাদি চিকিৎসাধীন ছিলেন) জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ভারতে প্রবেশ করলে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।প্রণয় ভার্মাকে ঢাকায় তলবের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই দিন দুপুরে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ নামে একটি কর্মসূচির ঘোষণা ছিল জুল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top