প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেয়ারবাজার থেকে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনবেন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই। আজ বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার কেনার এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানাবেন। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, আজিজ মোহাম্মদ ভাই বাজার থেকে তাঁর মালিকানাধীন এই কোম্পানিটির ১ কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি এই শেয়ার কেনা সম্পন্ন করবেন। ডিএসইর ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে তিনি এই শেয়ার কেনার কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও ঘোষণা করেছেন।
আজিজ মোহাম্মদ ভাই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রশাসনে প্রখ্যাত ছিলেন। তিনি চলচ্চিত্র উৎপাদন ও ব্যবসা করতেন। চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল চৌধুরীর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে তিনি সন্দেহিত ছিলেন। ২০২৪ সালে সোহেল চৌধুরীর হত্যা মামলার রায়ে আদালত আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক হয়ে, দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
সাধারণত শেয়ারবাজারে বড় পরিমাণের শেয়ার লেনদেনের সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্লক মার্কেটটির পক্ষে প্রাথমিকভাবে চয়ন করেন। এখানে প্রধান পার্থক্য হল, ব্লক মার্কেটে শেয়ারের দরদাম এবং পরিমাণ পূর্বেই নির্ধারিত থাকে, যা সাধারণ বাজারে থেকে বিভিন্ন। এখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা মধ্যে শেয়ারের দরদাম এবং পরিমাণ সম্পর্কে আগে থেকেই একটি গোপনীয় চুক্তি অনুষ্ঠানিকভাবে বিচার করা হয়। এছাড়াও, বাজারে ব্যবসা করার জন্য ব্যবহৃত শেয়ারের হাতবদলের আনুষ্ঠানিকতা ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে সংক্ষেপে সঞ্চালিত হয়। তবে, সাধারণ বাজারে, ক্রেতা-বিক্রেতারা কারও পরিচিত থাকে না এবং শেয়ারের দামও বাজারের চাহিদা ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এই কারণে সাধারণ বাজার থেকে বৃদ্ধি পেতে গিয়ে বড় পরিমাণের শেয়ার কেনার সময়, ব্লক মার্কেটটি বেশি জনপ্রিয় হয়।
আজ সকাল ১১টার পরে ঢাকার বাজারে দেখা যাচ্ছে যে, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৫৪ টাকা। এখন আজিজ মোহাম্মদ ভাই বলেছেন যে, কোম্পানিটির বর্তমান বাজারমূল্যে ১ কোটি শেয়ার কিনতে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা লাগবে। তবে এই টাকার অঙ্কে কিছুটা কমবেশি হতে পারে।আজিজ মোহাম্মদ ভাই বাজার থেকে যে শেয়ার কিনতে চান, তা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি। এর মাধ্যমে তিনি বাজার থেকে কোম্পানিটির ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে চলেছেন। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে এখন প্রায় ৩২ শতাংশ কোম্পানিটির মোট শেয়ার রয়েছে। আজিজ মোহাম্মদ ভাই যদি ১ কোটি শেয়ার কিনেন, তাহলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ারের পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে।
১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ একটি ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার হিসেবে এ শ্রেণিভুক্ত হয়। এই কোম্পানি দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের বাজারের একটি বড় অংশ অধিকারী। কোম্পানির পণ্যভাণ্ডারে রয়েছে এনার্জি, নাটি, টিপ, লেক্সাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও অলিম্পিক ব্র্যান্ডের ব্যাটারি।আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের দ্বারা পরিমাণে শেয়ার কেনার ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ কারণে ঢাকার বাজারে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের লেনদেন বেড়েছে। এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রায় সোয়া ৯ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকার মতো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ টাকা



