ভারত-রাশিয়া ব্যবসায়ী ফোরামে দুই দেশের শিল্পসংগঠনগুলো সহযোগিতার আরও খাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।

আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে রুশ বাজারে ভারতীয় রপ্তানি বাড়ানো। কৃষি, প্রকৌশল ও পরিষেবা খাতে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পরিষেবা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি।

ডিডলারাইজেশন বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রাশিয়া-ভারত ভিন্ন মুদ্রায় লেনদেন করছে। ডলারের বাইরে দিরহাম, রুপি ও ইউয়ানে লেনদেন বেড়েছে। পুতিনের এবারের সফরে পেমেন্ট কাঠামো তৈরি করা নিয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়ার এসপিএফএস সিস্টেম আরইউপেসহ ভারতীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ভারত বর্তমানে রাশিয়ায় যেসব পণ্য রপ্তানি করছে, সেগুলো হলো রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, ধাতু, সবজি, প্রাণিজ পণ্য, প্লাস্টিক ও রাবার, চামড়াজাত পণ্য, নিট পোশাক, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে রাশিয়া থেকে ভারত যেসব পণ্য আমদানি করে, তার মধ্যে আছে সমরাস্ত্র, সার, বিটুমিন, জ্বালানি, মূল্যবান ধাতু, পাল্প, কাগজ, ধাতু ও উদ্ভিজ্জ তেল।

প্রতিরক্ষা পুতিনের ভারত সফরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় চুক্তি হবে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশেষ করে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হবে। ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সফলতায় ভারত সন্তুষ্ট। এরপর তারা আরও এস-৪-০০ কেনার কার্যাদেশ দিয়েছে। সেগুলো কবে সরবরাহ করা হবে, তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে এই সফরেই।

পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। রুশ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, অতিরিক্ত এস-৪০০ নিয়ে আলোচনাই অগ্রাধিকার পাবে। তবে এ কারণে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি আরও বাড়বে।

সোভিয়েত-উত্তর যুগে ব্যবসা বেড়েছে ভারত ও রাশিয়ার কৌশলগত মিত্রতা অনেক পুরোনো। তবে সোভিয়েত–উত্তর যুগে ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত বেড়েছে। মস্কোতে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্যানুসারে, ১৯৯৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত হয়েছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাস, ওষুধ ও আইটি খাতে বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার কোম্পানিগুলো ভারতের জ্বালানি, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করেছে।

1 thought on “ভারত-রাশিয়া ব্যবসায়ী ফোরামে দুই দেশের শিল্পসংগঠনগুলো সহযোগিতার আরও খাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top