কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভর করে ৪ ট্রিলিয়ন (৪ লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। গতকাল সোমবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য এই উচ্চতায় পৌঁছায়। এর মাধ্যমে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের পর চতুর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় নাম লেখাল অ্যালফাবেট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিয়ে গুগলের কৌশল নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে যে সংশয় ছিল, তা কেটে যাওয়াই এই সাফল্যের মূল কারণ। সম্প্রতি অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেলে গুগলের ‘জেমিনাই’ ব্যবহারের জন্য একটি বহুবর্ষী চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া স্যামসাং তাদের মোবাইল ডিভাইসে জেমিনাইয়ের ব্যবহার দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়ায় অ্যালফাবেটের শেয়ারের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে।
২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবশালী সাত কোম্পানি বা ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর মধ্যে অ্যালফাবেট সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম বাজারমূলধনে অ্যাপলকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে অ্যালফাবেট। গুগলের এক সময়ের পিছিয়ে থাকা ক্লাউড ইউনিট এখন আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অ্যালফাবেটের এই জয়যাত্রা কেবল সফটওয়্যারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজস্ব এআই চিপ বাইরের গ্রাহকদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। এমনকি মেটা প্ল্যাটফর্মস ২০২৭ সাল থেকে তাদের ডেটা সেন্টারে অ্যালফাবেটের চিপ ব্যবহারের জন্য বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আলোচনা চালাচ্ছে। এছাড়া গুগলের নতুন ‘জেমিনাই ৩’ মডেলটি ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৫-এর তুলনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় বাজারে গুগলের আধিপত্য আরও সুসংহত হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পেছনে আরও একটি আইনি কারণ রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন এক আদালত গুগলকে ভেঙে না দেওয়ার এবং ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ রাখার পক্ষে রায় দেয়। আইনি ও প্রযুক্তিগত এই জোড়া সাফল্যে অ্যালফাবেট এখন এআই যুদ্ধের সম্মুখভাগে অবস্থান করছে।



