টাইপ-২ ডায়াবেটিস এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর একটি। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই রোগের সঙ্গে বাড়ে করোনারি ইস্কেমিয়া, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিল কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি। তবে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় ওষুধ নিয়ে এবার উঠল নতুন বিতর্ক।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্লিপিজাইড হৃদরোগের ঝুঁকি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন।
ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের গবেষকরা সালফোনিলুরিয়া শ্রেণির ওষুধে চিকিৎসা নেওয়া প্রায় ৫০ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে জানান, গ্লিপিজাইড ব্যবহারের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে JAMA Network-এ।
গবেষণায় দেখা যায়, ডাইপেপটিডিল পেপটিডেস-৪ (DPP-4) ইনহিবিটরের তুলনায় গ্লিপিজাইড ব্যবহারে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষ করে গ্লিপিজাইড গ্রহণকারীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু—উভয়ই বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
গবেষণার সংশ্লিষ্ট লেখক ও BWH এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার টারচিন বলেন,”টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের স্ট্রোক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টসহ নানা কার্ডিওভাসকুলার জটিলতার আশঙ্কা বেশি। সালফোনিলুরিয়া সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় ওষুধ হলেও, এটি হৃদ্স্বাস্থ্যে কতটা প্রভাব ফেলছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য এতদিন ছিল না।”
গবেষণার আওতায় ৪৮,১৬৫ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা সারা আমেরিকার ১০টি গবেষণা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মেটফর্মিনের পাশাপাশি তাদের গ্লাইমেপিরাইড, গ্লিপিজাইড, গ্লাইবারাইড বা DPP-4 ইনহিবিটর দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়—
- গ্লিপিজাইড গ্রহণকারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি DPP-4 ইনহিবিটরের তুলনায় ১৩% বেশি
- গ্লাইমেপিরাইড ও গ্লাইবারাইড তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকি তৈরি করে
- আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত গবেষকদের
ডায়াবেটিস চিকিৎসার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমানো। তাই এই গবেষণার ফল চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য কেবল গবেষণাভিত্তিক। চিকিৎসা নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্টেম সেল নিউট্রিশন থেরাপী এর সহজ সমাধান


খাওয়া-দাওয়া ঘুম ঠিক করা দরকার
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন কএওতে হবে