জয়েন্টের ব্যথার বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী অনুসন্ধান
স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগামী ইসলামি পণ্ডিত ও অধ্যাপক ড. তাসনিম জারার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার
জয়েন্টের ব্যথা—এই একটি সমস্যাই আজ লাখো মানুষের নীরব কষ্টের কারণ। হাঁটু, কোমর বা পিঠের ব্যথায় স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে ছিটকে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে অগ্রগতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা কাঙ্ক্ষিত উপশম পাচ্ছেন না। ঠিক এমনই এক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছেন একজন ব্যতিক্রমী গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদ—ড. তাসনিম জারা।
তিনি একাধারে চিকিৎসাশাস্ত্র ও ইসলামি বিজ্ঞানে শিক্ষিত একজন অধ্যাপক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়েন্টের রোগ এবং প্রাচীন তুর্কি ও প্রাচ্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি তার গবেষণাকর্ম ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্বাস্থ্য অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
ব্যক্তিগত জীবন থেকেই গবেষণার শুরু
ড. তাসনিম জারা জানান, তার গবেষণার পেছনে মূল প্রেরণা ছিলেন তার চাচী সুরাইয়া। ২০১৭ সালে সুরাইয়ার হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধরা পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার চলাফেরা সীমিত হয়ে আসে। নিয়মিত ওষুধ, ইনজেকশন, ফিজিওথেরাপি—সব চেষ্টা করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।
“একজন চিকিৎসা শিক্ষার্থী হিসেবে আমি অসহায় বোধ করছিলাম,” বলেন ড. জারা। “যাকে আমি সবচেয়ে কাছ থেকে ভালোবাসি, তাকে সাহায্য করতে পারছি না—এই বেদনাই আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।”
প্রাচ্য চিকিৎসা ও ভেষজ গবেষণার পথে
পশ্চিমা চিকিৎসা পদ্ধতিতে সমাধান না পেয়ে তিনি মনোযোগ দেন প্রাচীন প্রাচ্য ও তুর্কি চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে। দীর্ঘ গবেষণায় তিনি ‘ডেভিলস ক্লো’সহ কয়েকটি ভেষজ উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করেন, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে জয়েন্টের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তার ভাষায়, “এই উপাদানগুলো নিয়ে আধুনিক ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ আমাকে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।” নেপাল, ভারত ও চীন থেকে সংগৃহীত ভেষজ উপাদান নিয়ে দীর্ঘ পরীক্ষার পর একটি ভেষজভিত্তিক ফর্মুলা তৈরি করা হয়।
আশার আলো
ড. জারার তত্ত্বাবধানে তৈরি ভেষজ কমপ্লেক্সটি নিয়মিত ব্যবহারের পর সুরাইয়ার অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করে। ফোলা কমে আসে, ব্যথা হ্রাস পায় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে শুরু করেন।
“সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল তার মুখে হাসি ফিরে আসা,” বলেন ড. জারা। “একজন মানুষ যখন ব্যথা থেকে মুক্তি পায়, তখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
গবেষণা থেকে জনসেবার পথে
এই অভিজ্ঞতা ড. তাসনিম জারাকে নতুন একটি লক্ষ্য দেয়—নিজের গবেষণাকে আরও পরিশীলিত করে বৃহত্তর মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো। প্রায় তিন বছরের গবেষণা ও পরীক্ষার পর তিনি একটি ভেষজভিত্তিক জয়েন্ট কেয়ার ফর্মুলা উপস্থাপন করেন, যার নাম দেওয়া হয় Joint Fix।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো ম্যাজিক নয়। এটি দীর্ঘ গবেষণার ফল। তবে যেকোনো চিকিৎসার মতোই এটি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে—এমন দাবি করাও বিজ্ঞানসম্মত নয়।”
সতর্কতা ও পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জয়েন্টের ব্যথা একটি জটিল সমস্যা এবং এর চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই যেকোনো নতুন পণ্য বা চিকিৎসা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ড. তাসনিম জারার গবেষণা নতুন আশার দ্বার খুললেও, বিষয়টি নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে—এমন মতই দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এই ওষুধ পাওয়ার উপায় কি?