কাল থেকে জরুরি টিকা শুরু হচ্ছে, তালিকায় কোন কোন উপজেলা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এসব উপজেলায় হামের উচ্চ সংক্রমণ হার দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার ওপরে বরগুনা সদর উপজেলা। আগামীকাল রোববার এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এই উপজেলাগুলোর তালিকা পাওয়া গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল রাতে টিকাবিষয়ক কারিগরি কমিটি নাইট্যাগের সভা হওয়ার কথা ছিল। আজও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা হওয়ার কথা আছে। এই দুই সভায় আরও দু–একটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ আসতে পারে.

৩০টি উপজেলা আছে যেখানে বরগুনা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং বাকেরগঞ্জ বরিশালে; হাইমচর এবং সদর চাঁদপুরে; মহেশখালী এবং রামু কক্সবাজারে; নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, নলছিটি ঝালকাঠি, মাদারীপুর সদর, লৌহজং, সদর এবং শ্রীনগর মুন্সিগঞ্জে; ত্রিশাল, সদর এবং ফুলপুর ময়মনসিংহে; সদর, আটপাড়া, পোরশা, শিবগঞ্জ, সদর এবং ভোলাহাট চাঁপাইনবাবগঞ্জে; ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া এবং বেড়া পাবনা; গোদাগাড়ী রাজশাহী এবং জাজিরা শরীয়তপুরে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের প্রথম আলোকে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৬.৮ জনের হামের সংক্রমণ ঘটছে। এই সংক্রমণকে অনেক বেশি ধরে নেওয়া হচ্ছে এই সংস্থা দ্বারা।সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের বরগুনা জেলায়। এখানে এই বছরে ২৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার এখানে ২৯৫। এই জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ৩৬,৮৮৮ টি শিশু রয়েছে। তাদের প্রতিটির জন্য টিকার পরিকল্পনা আছে।

উচ্চ সংক্রমণ হারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে পাবনা সদর উপজেলা অবস্থিত। এখানে ৩২ শিশু আক্রান্ত হয়েছে, এবং সংক্রমণ হার হয়েছে ১৮০। এই জেলায় ছয় মাস থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের সংখ্যা ৭২ হাজার ৮২৫টি। তৃতীয় স্থানে চাঁদপুর সদর উপজেলা অবস্থিত। এখানে এ পর্যন্ত ২৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে, এবং সংক্রমণ হার হয়েছে ১৪৪। এ জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৩২৮টি।সংক্রমণ হার বেশি, এমন একটি জেলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিভিল সার্জন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর উপজেলায় জনবলসংকট রয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকা দেন সাধারণত স্বাস্থ্য সহকারী। কিন্তু এ জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য। জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক ৯৪৭ জন রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ হাজার ৭৯২ জনের হামের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ৭৭১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৯৪ জনের সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের হামে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি বলে জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top