১০ ছবির আয় ৪ কোটি ডলার, তবু কেন সিনেমা ছাড়লেন সেই নায়িকা

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬

সমুদ্রতলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পড়াশোনা করার স্বপ্ন ছিল সেই মেয়ের। এক শহর থেকে অন্য এক শহরে বাবার কর্পোরেট কাজের পরিবর্তন সাথে ঘুরে বেড়ানো শিশুত্ব—চেন্নাই, মুম্বাই, কলকাতা, কাঠমান্ডু, রাজস্থান, গুজরাট। স্থায়ী ঠিকানা ছিল না, বরং প্রচলিত জীবনধারা ছিল। সেই মেয়েটিই একসময় দক্ষিণী চলচ্চিত্রের পরিচিত চেহারা, চার ভাষার অভিনেত্রী। এখন? ইউনাইটেড কিংডমের একটি গেমিং কোম্পানিতে ব্যবসা উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বিভাগের পরিচালক। তিনি প্রত্যয়ন আছেন।

অভিনেত্রী হওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না দীক্ষার। মুম্বাইতে কলেজে উঠেই ঠিক করেছিলেন, সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ব নিয়েই এগোবেন। কিন্তু প্রথম বর্ষে এক অনুষ্ঠানে নজরে পড়েন এক ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার প্রতিনিধি। প্রস্তাব আসে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার।

সেখানে সেরা দশে জায়গা অধিকার করে নেওয়া এবং ‘ফ্রেশ ফেস’ খেতাব জয়ী হওয়ার পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। হায়দরাবাদে একটি মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের সময়ে পরিচালক কৃষের চোখে পড়েন তিনি। সেই সূত্রেই সুযোগ পেয়েছিলেন ২০১০ সালের সমালোচক প্রশংসিত তেলুগু ছবি ‘ভেদাম’-এ। ছবিতে আল্লু অর্জুনের বিপরীতে পূজার চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীক্ষা। প্রায় ৭০ জনের বেশি নায়িকাকে বাদ দিয়ে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম ছবিতেই দৃশ্যমান আত্মপ্রকাশ। সে বছর সন্তোষম ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা নবাগত মুখের পুরস্কারও পেয়েছিল।

‘ভেদাম’-এর পর কাজে একটু গতিময়। ‘মিরাপাকি’ বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেন। একই বছরে ‘ওয়ান্টেড’ ছবিতে প্রথমবার প্রধান নায়িকা হিসেবে উঠলেন। ২০১২ সালে একাধিক ছবিতে–’নিপ্পু’, ‘রেবেল’ (যেখানে সহশিল্পী হলেন প্রভাস ও তামান্না ভাটিয়া)। তামিল ছবিতেও বিক্রমের বিপরীতে কাজ করলেন। হিন্দি ছবিতে অভিষেক ২০১৪ সালে ‘লেকার হাম দিওয়ানা দিল’-এ। তবে ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্যা পেতে পারেনি। এরপর ধীরে ধীরে মুখ্যধারার পর্দার পক্ষ থেকে সরে যাওয়ার অভ্যন্তরীণ কারণ দেখানো হয়। ২০২১ সালে ওয়েব সিরিজ ‘সাত কদম’-এ অভিনয় করলেও চলচ্চিত্র জগতে থেকে দূরেই ছিলেন।১০ ছবিতে ৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন তার লিঙ্কডইন প্রোফাইলে দেখানো হয়েছে, প্রায় এক দশক ধরে চার ভাষায় প্রধান চরিত্রে ১০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেগুলো ভারতে ৫০০ থেকে ১ হাজার পর্দায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে ৮০-১০০ পর্দায় মুক্তি পেয়েছেন।

এই ১০টি ছবির সম্মিলিত বক্স অফিস আয় ৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রসাধনী ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারত্ব, এক মিলিয়নের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী, ৪৫০টির বেশি টেলিভিশন ও রেডিও অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং ৩৫০টির বেশি সাক্ষাৎকার—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক ব্যস্ত তারকা.

সিনেমার ক্যারিয়ারের পথে অনেক সফল হলেও, দীক্ষা এখন আলোঝলমলে তারকাজীবন ছেড়ে অন্য দিকে হাঁটতে নির্ধারণ নিয়েছেন। এখন তিনি স্পেন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন এবং এখন যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গেমিং প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বিভাগের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এখন নিজের ভাষা, মিডিয়া, দর্শক ও ব্র্যান্ড নিয়ে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাকে এবার ব্যবসায়িক কৌশলে প্রয়োগ করতে চান।দীক্ষার গল্প এটা নয় যে এক অভিনেত্রীর উত্থান-পতনের কাহিনি, এটি হলো পরিচয়ের পুনর্নির্মাণের গল্প। এখানে খ্যাতি চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়। আলোক থেকে সরে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সাহস- এটি তাকে আলাদা করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top