শরণার্থীশিবির থেকে মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল জীবন, ইরানি অভিনেত্রীর অবিশ্বাস্য গল্প

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬

একটি ছোট ঘর থেকে শুরু করে, একজন শরণার্থী জীবন পালন করে জার্মানি এসে এখন মুম্বাইতে তার নিজের স্বপ্নের বাড়িতে বাস করছেন অভিনেত্রী এলনাজ নরৌজি। এই লম্বা, কঠিন পথ অতিক্রম করে এখন সে তার বাড়িতে নির্মাতা এবং কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের সাথে থাকছেন। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘হাউস ট্যুর’ নামক ভিডিওতে প্রদর্শিত এক মহিলার অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প উল্লেখযোগ্য।

মুম্বাইতে একটি বাড়ি শুধুমাত্র বিলাসের প্রতীক নয়, বরং এলনাজের সংস্কৃতির অসীম সৌন্দর্যের প্রতিফলন। ঘরের কার্পেট, দেয়ালের চিত্রকর্ম, ডাইনিং স্পেস – এখানে স্পর্শ করা যায় পারস্য সংস্কৃতির মাধুর্য। ফারাহ খান হৃদয় আনন্দিত হয় বাড়ির সাজসজ্জার দৃশ্য দেখে এবং উচ্চারণ করেন, ‘তোমার বাড়ির ডেকোরেশন অসাধারণ, এসপেশালি এই পার্সিয়ান কার্পেট!’ এলনাজ তথ্য দেন, যে তিনি এখানে একাই থাকেন এবং বহুবার্ষিক পর্যবেক্ষণে তাঁর জীবনযাপন করেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি প্রযোজ্য সিরিজ ‘স্যাক্রেড গেমস’ এ নাটক করেছেন, যা তাকে বিখ্যাত করেছে।

ব্যক্তিগত স্মৃতির দেওয়ালহাউস ট্যুরের এক পর্যায়ে দেখা যায় এলনাজের গ্ল্যামারাস ওয়াক-ইন ওয়ার্ডরোব, যেখানে সাজানো দামি ব্যাগ, জুতা আর পোশাকের সংগ্রহ।এর পাশাপাশি রয়েছে একেবারেই ব্যক্তিগত একটি কোণ-শৈশবের ছবি দিয়ে সাজানো দেওয়াল, যেখানে ধরা আছে তেহরান ও জার্মানিতে কাটানো সময়ের স্মৃতি। শোবার ঘরটিও এলনাজ নিজেই ডিজাইন করেছেন। সাদা ও বেইজের শান্ত রঙের মাঝে নীলাভ ওয়ালপেপার, একটি রাজকীয় চেয়ার এবং স্টেটমেন্ট ল্যাম্প-সব মিলিয়ে এক সংযত অথচ অভিজাত পরিবেশ।

আজকের এই সাফল্যের পেছনে একটি কঠিন অতীত থাকে। এলনাজ নিজেই বলেন, ‘অনেকে ভাবে আমি ধনী পরিবার থেকে এসেছি, কিন্তু তা নয়। আমরা ইরানে খুব ছোট একটি বাড়িতে থাকতাম।’ তেহরান ছেড়ে পরিবারসহ জার্মানিতে যেতে হয় রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে। শুরুতে তারা থাকতেন একটি শরণার্থীশিবিরে। ‘আমরা কোনো কাগজপত্র ছাড়া গিয়েছিলাম। একটা ছোট ঘরে তিনটি বিছানা—অন্যান্য পরিবারের সঙ্গে রান্নাঘর আর বাথরুম শেয়ার করতে হতো,’ স্মৃতিচারণা করেন তিনি। খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে একটুকরো আলু আর একটি ডিম পাওয়া, সেটাই ছিল তখনকার বাস্তবতা।

ভারতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এলনাজকে নতুন করে শিখতে হয়েছে অনেক কিছু। দেবনাগরী লিপি, উর্দু-সবই তিনি শিখেছেন, যাতে তাঁকে ‘বহিরাগত’ মনে না হয়। এলনাজ বলেন, ‘আমি চাইনি কেউ ভাবুক আমি সুবিধাপ্রাপ্ত। কাজ করতে হলে ভাষা জানতে হবে। আমি সাতটি ভাষায় কথা বলতে পারি, এমনকি জাভা দিয়ে প্রোগ্রামিংও শিখেছি।’ জার্মানিতে এলনাজ ছিলেন মেধাবী ছাত্রীদের একজন, এমনকি রোবট প্রোগ্রামিংও শিখেছিলেন, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top