টম ক্রুজের সঙ্গে ব্র্যাড পিটের লড়াই!

মাত্র ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই চমকে ওঠেন দর্শক। সেখানে দেখা যায়, হলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেতা টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিট একটি ভবনের ছাদে একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

তবে পরে জানা যায়, দৃশ্যটি বাস্তব নয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি। এতটাই নিখুঁতভাবে এটি নির্মাণ করা হয়েছে যে, প্রথম দেখায় বাস্তব বলে মনে হয়।

চলচ্চিত্র জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে যে অস্বস্তি দীর্ঘদিন ধরে ছিল, এই ভিডিও তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর দৃশ্য নির্মাণের মান এতটাই উন্নত হয়েছে যে, আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র সংস্থাগুলোর জোট। তারা চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া তারকাদের চেহারা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।

অভিনেতাদের সংগঠনও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, শিল্পীদের কণ্ঠ ও চেহারা বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা নৈতিকতা ও সম্মতির মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

ভিডিওটি প্রকাশ করেন আইরিশ নির্মাতা রুয়ারিদ রোবিনসন। তিনি জানান, এটি তৈরি হয়েছে ‘সিড্যান্স ২.০’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের মাধ্যমে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই উপলব্ধি করেন প্রযুক্তি কত দ্রুত বাস্তবসম্মত দৃশ্য নির্মাণে সক্ষম হয়ে উঠেছে।

‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’-এর সহলেখক রেট রিজ মন্তব্য করেন, ভবিষ্যতে একজন নির্মাতা নিজের ঘরে বসেই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবেন, যা প্রচলিত নির্মাণশৈলীর সঙ্গে পার্থক্য করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিকে তরুণ নির্মাতাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। কেউ একে সৃজনশীল বিপ্লব বলছেন, আবার কেউ দেখছেন সম্ভাব্য সংকট হিসেবে।

এটা স্পষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়; এটি সরাসরি সৃজনশীল জগতে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top