ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস চালু করছে সরকার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬

সরকারের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস বিষয়ে একটি ডিপিপি প্রণয়ন হচ্ছে এফডিসি। এফডিসির পরিচালক মাসুমা তানি গত বুধবার প্রথম আলোকে জানান, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর দিক থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।নাম প্রদান না করার শর্তে তথ্য ও সম্প্রচারের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোকেই পরে এফডিসিকে ডিপিপি পাঠাতে বলা হয়। দিন বিশেষ ধরে ডিপিপির কাজ করছে এফডিসি।

মাসুমা তানি বলেন, ঈদের আগেই এই প্রস্তাবটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগে জমা দেওয়া হবে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী (ইয়াসের খান চৌধুরী) সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বলেছেন যে, এই কাজের জন্য ন্যূনতম অর্থ ব্যয় করতে হবে। তারা সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে। ডিপিপি প্রণয়নের আগে সিনেমা হল মালিক সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিসহ চলচ্চিত্রের অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এফডিসি। ই-টিকিটিং ও বক্স অফিসের প্রশ্নে সবাই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

‘সেন্ট্রাল সার্ভার, ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস স্থাপন’ শিরোনামে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবিত (ডিপিপি) এর কাজ তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের প্রশাসন ও অর্থ প্রধান কামাল মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, দেশের সব সিনেমা হলকে একটি কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব করে প্রধানত চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে।১. এফডিসি-তে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্থাপন করা হবে। দেশের কোন সিনেমা হলে কত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, কোন শো হাউসফুল, কত টাকা আয় হচ্ছে – এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। প্রযোজকেরা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের ছবির আয় দেখতে পারবেন।

২. ধাপে ধাপে সব সিনেমা হলে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। বর্তমানে অনেক হলে হাতে হাতে টিকিটিং চালু থাকায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হিসাবে ভাগ হয়ে যাবে। প্রযোজক, হলমালিক ও সরকারের অংশ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।৩. পাইরেসি ঠেকাতে বিশেষ ডিভাইস বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো সিনেমা অবৈধভাবে ধারণ বা সম্প্রচার করার চেষ্টা হলে শনাক্ত করা যাবে।৪. বক্স অফিস চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোন সিনেমা কত আয় করছে, কোন ছবি শীর্ষে আছে-এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের মতো এই র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চলচ্চিত্রের বিপণনে স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে। একটি ওয়েবসাইটে সিনেমার আয়, টিকিটি বিক্রির তথ্য প্রকাশিত হবে।

সিনেমা দেখার জন্য এফডিসির সার্ভারের মাধ্যমে কপি এবং শো সংখ্যার প্রবাহ হবে। সিনেমা প্রথমে নির্দিষ্ট ডিজিটাল ফরম্যাটে প্রস্তুত করে এফডিসির মূল সার্ভারে আপলোড করা হবে। প্রতিটি সিনেমা আলাদা সার্ভার বা ডিজিটাল প্লেয়ারে থাকবে, যা প্রজেক্টর সহ সংযুক্ত থাকবে। মূল সার্ভার থেকে নির্দিষ্ট হলের সার্ভারে সিনেমা পাঠানো হবে। প্রতিটি হলের জন্য আলাদা ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড থাকবে, যা ব্যবহার করে হল কর্তৃপক্ষ সিনেমা ডাউনলোড এবং প্রদর্শন করতে পারবে। এটির জন্য প্রতিটি হলে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। এই ব্যবস্থায় প্রয়োজকরা সার্ভারে লগইন করে দেখতে পারবেন কোন হলে সিনেমা চলছে এবং কতগুলি শো হচ্ছে। এতে বক্স অফিস এবং প্রদর্শন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। দেশের একক সিনেমা হলে ইতিমধ্যে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভার চালু আছে, তবে সেখানে এখনো ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস ব্যবস্থা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top