‘মা আমার চোখ দেখে সবই বুঝতে পারতেন’

অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভানকে আজকের অবস্থানে আসতে পেরোতে হয়েছে নানা বাধাবিপত্তি। এই সময়ে তার পাশে ছিলেন মা সোহেলী আহমেদ। মা দিবসে মা-ছেলের সেই গল্পগুলোই শোনাচ্ছেন মনজুরুল আলম।

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬,

ক্যারিয়ারের শুরুতে কথা বলতে গিয়ে ফারহান আহমেদ জোভান একটা মানসিক দাবি করলেন। তার কাছে কিছু দিন খুব খারাপ কাটত। ঘটনার অধিকাংশ মায়ের সাথে ভাগ করতে হতো না। কখনোই তিনি মায়ের সাথে তার কষ্ট বা ভাবানুভূতি ভাগ করেননি। চিরকাল গিয়েও মা প্রথমেই তার চোখ এবং চেহারা দেখেই কোন সমস্যা বোঝতে পারতেন। সমস্যা হলে মা সেটা অনুমান করতে পারতেন, তার সমাধানে সাহায্য করতেন। এখনো যদি কোনো সমস্যা থাকে, মা সেটা সাধারণভাবে বোঝে আর উপচার করেন। এমনকি তিনি মনে করেন, মা মনে হলে কিছু ভালো হবে না। মা সবসময় সহানুভূতি দেখান, সাহায্যের হাত প্রস্তুত থাকেন।

মায়ের প্রেরণাজনক জোভান অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ‘ইউনিভার্সিটি’। এটি সপ্তাহে দুদিন প্রচারিত হতো। এই দুটি দিনে যেমন প্রতিটি পরিবার সদস্য টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতেন, ঠিক তেমনি জোভানের পরিবারের সবাই অত্যন্ত উৎসাহে অংশ নিতেন। ‘আমি খুব ভালো অনুভব করতাম মায়ের অংশে থাকতে। আমার অভিনয়ের সময়ে মায়ের মনোভাব আলাদা ছিল। তার উপস্থিতির মাধ্যমে মা আমাকে উৎসাহিত করতেন এবং আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতেন।’ জোভান এটি বলেছেন।

জোভান শুক্রবারের দিনটির জন্য আশা করতেন মায়ের সাথে প্রিয় স্মৃতিশৈশবে সময় কাটাতে। তার দিনটা এলেই ছেলের হাত ধরে বাবার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পেতেন মা। ঢাকায় ছিল জোভানের নানাবাড়ি। ‘নানা, নানি, মামা, মামারা সবাই থাকতেন। কোনো শুক্রবার চুক্তি হয় না। নানাবাড়িতে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতাম, ক্রিকেট খেলতাম। মায়ের সাথে হাত ধরে ফিরতাম। সেই দিনগুলো এখনো মনে মনে স্মরণীয়। তবে শুটিং-এর কারণে এখন মায়ের আবদার সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয় না অনেক। কখনো মন খারাপ হয়, কিন্তু মা অভিমান করে না। আমি চাই, মা আমার ভালোটাই দেখতে পারেন,’ জোভান মন্তব্য করেন।

জোভান মা পাশে ছিলেন যখন অভিনয় করবেন ঠিক করলেন। মাকে জানালেন যে হয়তো মা বাধা দেবেন। কিন্তু মা তাঁকে পুরো সমর্থন করেন। তার জন্য মাকে নানা কথাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু ছেলের পছন্দে কখনো বাধা দেননি। জোভান বলেন, ‘নীরবে নিভৃতে একমাত্র মা আমাকে অভিনয়ে সমর্থন করেছেন। অন্যরা করেনি। জানান দিয়ে কিছু বলতেন না আম্মা। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন অভিনয়ে আপত্তি নেই। এভাবে সহযোগিতা করতেন। যেমন রাতে না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন, গেট খুলে দিতেন, খাবার রেখে দিতেন, খাবার গরম করে রাখতেন। অভিনয়ের কথা শুনতে চাইতেন। বুঝতাম মা চান আমি অভিনয় করি।’

কিন্তু ছেলেটা আজকের সময়ে এসে নাই, এটা কখনোই মনে করেননি। তবে অভিনয়ের সাথে ছেলে ভালো থাকবে, এটা বোঝানো হয়েছিল। মা বলেন, ‘আমার ছেলেটা পরিশ্রমী। যত ব্যস্ত হোক পরিবারে, ততই সে কখনো ছোট ছেলের মতো থাকে। অনেক সময় মা হিসাবে চাই, আমরা সময় কাটানোর জন্য, একটু বিশ্রাম নেওয়া জন্য। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ছেলে সে সময় পেয়ে না। এটা কখনো কখনো মন খারাপ করে। এটাও বোঝি তার কমিটমেন্ট এর কথা। সব সময়ই মা হিসাবে তার পাশে থেকেছি। এখনো যদি তার মন খারাপ দেখতে থাকে, তাহলে শুধু একটু বলতে চাই, ‘আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top