আবেদনময়ী তারকা, বিতর্ক থেকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা! শ্যারনের আশ্চর্য জীবন

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬

হলিউডে এরকম কিছু অভিনেত্রী রয়েছে, যারা কেবল অভিনয় নয়, তারা ব্যক্তিত্ব, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং জীবনের সংগ্রামের মাধ্যমেও মনোরম থাকেন। এদের মধ্যে একজন হলেন শ্যারন স্টোন। ১৯৯০ এর দশকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রতিফলনকর অভিনেত্রীর মধ্যে। বিশেষভাবে ‘বেসিক ইন্স্টিংক্ট’ সিনেমায় তার অভিনয় এবং উপস্থিতি তাকে বিশ্বজুড়ে তারকা তৈরি করেছিল। তবে এই সাফল্যের পিছনে দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান, স্বাস্থ্যসম্বন্ধীয় সমস্যা এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঙ্জ ছিল। আজ ১০ মার্চ তার জন্মদিন; এ উপলক্ষে চলে যাক শ্যারন স্টোনের জীবন এবং ক্যারিয়ার।

১৯৫৮ সালের ১০ মার্চে, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ছোট শহর মিডভিলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্যারন স্টোন। তাঁর শৈশব ব্যাপারে তার অত্যন্ত সুখের না ছিল। তিনি জানান, তাঁর মাতামহ ছিলেন একজন অত্যাচারবাদী ব্যক্তি এবং পরিবারের মেয়েদের উপর অত্যাচার চালাতেন। স্টোন দাবি করেন, তাঁর মা ছোটবেলা থেকেই মারধরের শিকার ছিলেন। পরে স্টোন ও তাঁর বোনও সেই নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তার মনে এই অভিজ্ঞতা খুবই ব্যাপারটি লিখেছেন তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্য বিউটি অব লিভিং টোয়াইস’-এ। তার মতে, পরিবারের গোপন অত্যাচারের কথা প্রকাশ করা খুব সহজ নয়। কারণ, পরিবারের ভেতরের সত্য প্রকাশ করলে অনেক সময় মানুষেরা আপনাকে দোষী মনে করে।

শিক্ষার্থী হিসেবে শ্যারন স্টোন একজন মেধাবী ছিলেন। তিনি স্কুলে এত সার্থক কাজ করছিলেন যে, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর কলেজ যাওয়ার সুযোগ মিলল। পড়াশোনার পাশাপাশি, তাঁর আগ্রহ ছিল অভিনয় ও মডেলিং এ।শতকের শেষ দিকে, একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তার জীবনে নতুন একটি মোড় চলে এসেছে। একজন বিচারক তাকে পরামর্শ দিয়েছেন নিউইয়র্কে মডেলিং করার জন্য। এই পরামর্শের ফলে, তিনি বড় স্বপ্নের শহরে পৌঁছে গিয়েছেন।

নিউইয়র্কে এসে শ্যারন স্টোন খুব তাড়াতাড়ি ফ্যাশন জগতে পরিচিত হন। তিনি আন্তর্জাতিক মডেলিং এজেন্সি ফোর্ড মডেলসের সাথে কাজ শুরু করেন। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফ্যাশন ম্যাগাজিনে তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়। মডেলিংয়ে সাফল্য পেয়েছেন, তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল অভিনয়ে। তার স্বপ্ন হয়েছিল হলিউডে অভিনয়ে চলচ্চিত্র করা। শেষে, ১৯৮০ সালে উডি অ্যালেনের চলচ্চিত্র ‘স্টারডাস্ট মেমোরিজ’ তে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন। যদিও ভূমিকাটি ছিল ছোট, কিন্তু এটি ছিল তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

১৯৯২ সালে, শ্যারন স্টোনের জীবনে একটি মহান সুযোগ এসে গেল। পরিচালক পল ভারহোভেন তাকে নিয়ে ইরোটিক থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ এ একটি অভিনয় প্রদান করতেন। এ চলচ্চিত্রে তিনি রহস্যময় লেখক ক্যাথরিন ট্রামেলের চরিত্র অভিনয় করেন। তার বিপরীতে ছিলেন মাইকেল ডগলাস। এই চলচ্চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোড়ন উত্তরিত হয়। এক জন বিশেষ দৃশ্যের জন্য এতটাই আলোচনা হয়, যা এই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত হিসেবে প্রসিদ্ধ। স্টোন পরে দাবি করতেন যে, ওই দৃশ্যের সত্যতা তাকে সম্পূর্ণভাবে জানানো হয়নি। পরিচালক তাকে বলেছিলেন যে তাকে মনোবল খুলতে হবে, যাতে আলো প্রতিফলিত না হয়। কিন্তু পরে সেই মুহূর্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়। এই একটি দৃশ্যই অনেক বছর ধরে তার ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।

হলিউডে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। আশির দশকের বেশির ভাগ সময় শ্যারন স্টোন ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘কিংস সলোমনস মাইনস’, ‘পোলিস একাডেমি ৪’ ইত্যাদি সিনেমায়। কিন্তু এসব সিনেমা তাঁকে বড় তারকা বানাতে পারেনি।অনেক প্রযোজক তখন শ্যারন স্টোনকে শুধু ‘সুন্দরী মডেল’ হিসেবে দেখতেন, দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পাওয়া ছিল কঠিন। এই সময়টাতে তিনি বহুবার হতাশ হয়েছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন—হলিউডে টিকে থাকার জন্য শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রচণ্ড ধৈর্যও দরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top