যৌন নিপীড়ন থেকে বডি শেমিং, মডেলদের রিয়েলিটি শোর অন্ধকার গল্প

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচিত-সমালোচিত রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকাস নেক্সট টপ মডেল’ এর অন্তরালের গল্প নিয়ে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘রিয়েলিটি চেক: ইনসাইড আমেরিকাস নেক্সট টপ মডেল।’ মোর লুসলি ও ড্যানিয়েল শিবানের এই সিরিজে উঠে এসেছে পর্দার আড়ালের বিতর্ক, অপমান, ক্ষমতার রাজনীতি, এমনকি এক অন-ক্যামেরা যৌন নিপীড়নের অভিযোগও। শোটি তৈরি করেছিলেন সুপারমডেল টায়রা ব্যাঙ্কস। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে ২৪ মৌসুম ধরে তিনটি ভিন্ন নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি; কিন্তু নতুন এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে এমন সব ঘটনা, যা শোটির উজ্জ্বল গ্ল্যামারের আড়ালে দীর্ঘদিন চাপা ছিল।

টাইরা ব্যাংকসের মনের ভাবনা ছিল, ‘আমেরিকান আইডল’ এবং ‘দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড’ এর প্রতিযোগিতামূলক উত্তেজনা এবং ডকুমেন্টারি ধাঁচকে একত্র করে ফ্যাশনের জগতে একটি রিয়েলিটি শো তৈরি করা। শো রানার কেন মর্কের সঙ্গে মিলেই তিনি প্রকল্পটি দাঁড় করান। বড় বড় নেটওয়ার্ক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত কম জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক ইউপিএন শোটি গ্রহণ করে। সেখান থেকেই শুরু হয় ‘এএনটিএম’-এর উত্থান। নতুন মুখ পায় দর্শক। তবে প্রকৃত অর্থে ‘সুপারমডেল’ তৈরির ক্ষেত্রে শোটি কতটা সফল—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।কাস্টিং নিয়ে দ্বন্দ্ব, বর্ণ ও যৌনতা প্রসঙ্গপ্রথম মৌসুমেই বৈচিত্র্যময় কাস্টিং নিয়ে আপত্তি আসে। প্রযোজক কেন মর্কেরর ভাষ্য অনুযায়ী, সিবিএসের তৎকালীন প্রধান লুসি মুনভেস এক লাতিন প্রতিযোগীর অন্তর্ভুক্তি আটকে দেন। টাইরা এতে ক্ষুব্ধ হন। প্রথম মৌসুমের প্রতিযোগী এবনি হেইথ অভিযোগ করেন, তাঁকে ক্যামেরার সামনে ‘আউট’ করে দেওয়া হয়েছিল। শোতে তাঁকে ‘আক্রমণাত্মক’ ও ‘রাগী’ আখ্যা দেওয়া হয়। এমনকি মেকওভারের সময় তাঁর মাথায় তিনটি টাকের দাগ তৈরি হয়। তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য ছিল মানসিকভাবে বিধ্বংসী।

সোশ্যালবি “ব্ল্যাকআউট” যৌন সম্পর্ক: শ্যান্ডি সুলিভানের অভিযোগ দ্বিতীয় মৌসুমের প্রতিযোগী শ্যান্ডি সুলিভানের ঘটনা তথ্যচিত্রের সবচেয়ে গোপনীয় অধ্যায়। তাঁর মিলানে শুটিং চলাকালে তিনি বেশ কিছু মদ্যপান করেন। তাঁর কাছে, “আমি ব্ল্যাকআউট অবস্থায় ছিলাম। আমি কী ঘটছে সেটা বুঝতে পারিনি।”পরদিন ঘটনাটি শোতে “প্রেমিককে প্রতারণা” হিসেবে প্রদর্শিত হয়। এমনকি তাঁর প্রেমিকের সাথে ফোন করার ফুটেজও সর্বজনীন হয়, যেখানে তাঁকে অপমানজনক ভাষায় গাল দেয়া হল। সুলিভানের অভিযোগ ছিল, যে তিনি প্রয়োজনা দল হস্তক্ষেপ করতে পারত, কিন্তু তারা এটি করেননি। পরে টাইরার টকশোতে এই ফুটেজটি আবার প্রদর্শিত হল, কিন্তু তিনি আগেই বলেছিলেন যে তিনি এটি দেখতে চান না।

বিজয়ীর হতাশা: ড্যানিয়েল ইভানষষ্ঠ মৌসুমের বিজয়ী ড্যানিয়েল ইভান্স বললেন, টাইরা তাকে দাঁতের ফাঁক বন্ধ করতে বাধ্য করেছিলেন। জয়ী হওয়ার পরও নিউইয়র্কে কাজ পাওয়ার প্রত্যাশা ধরেছিলেন না। এজেন্ট বলেছিলেন, ‘টপ মডেল’ হওয়া থেকে আসা মডেলদের আলাদাভাবে সামলাতে হয়। ইভানস বলেছিলেন, ‘তারা আমাদের স্বপ্ন দিয়ে একটি সাম্রাজ্য বানিয়েছে; কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়নি।’বরখাস্ত ‘মিস জে’, ‘মিস্টার জে’ ও নাইজেল২০১২ সালে রেটিং কমে যাওয়ার পর টাইরার উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। জে ম্যানুয়েল, জে অ্যালেকজান্ডার এবং নাইজেল বার্কারকে বরখাস্ত করা হয়। ম্যানুয়েল বলেন, তিনি আগে শো ছেড়ে চেয়েছিলেন; কিন্তু তা হয়নি। পরে হঠাৎ সংবাদমাধ্যমে ‘টাইরা তাঁকে বরখাস্ত করেছেন’ খবর ফাঁস হয়। এতে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।মিস জের স্ট্রোকতথ্যচিত্রের শেষ অংশে মিস জে মিশরে আক্রান্ত হন। পাঁচ সপ্তাহ কোমায় থাকলেন। তার ক্ষেত্রে হাঁটতে বা কথা বলতে পারতেন না। তথ্যচিত্রে তাঁকে হুইলচেয়ারে দেখা যায়। পুরানো সহকর্মীদের সঙ্গে সংস্কারে পুনর্মিলন হয়। তিনি বলেন, ‘আমি মডেলদের হাঁটা শেখাতাম। এখন নিজেই হাঁটতে পারি না—এখনো না!’ টাইরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু দেখা করতে গেলেন না। তথ্যচিত্রের শেষ দিকে টাইরা ব্যাংকস বলেন, ‘আমার কাজ শেষ হয়নি। আপনারা জানেন না, নতুন কী পরিকল্পনা আছে।’ প্রশ্ন হলো নতুন মৌসুম কি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেবে, নাকি আবারও বিতর্ক হবে প্রধান আলোচ্য?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top