ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম সভায় গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করেছেন মার্কিন মেজর জেনারেল জাস্পার জেফার্স। সভায় তিনি জানান, গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া তাদের সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে।
এই পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে শান্তিরক্ষী বাহিনীকে প্রথমে রাফাহ সেক্টরে মোতায়েন করা হবে এবং সমান্তরালভাবে ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করার কাজ চলবে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে মিশর ও জর্ডান। জেনারেল জেফার্স দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করে বলেন, ক্রমান্বয়ে এই কার্যক্রম গাজার অন্যান্য সেক্টরেও সম্প্রসারিত করা হবে যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১২ হাজার পুলিশ সদস্য এবং ২০ হাজার আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা।
একই সভায় অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও এবং বোর্ড অব পিস-এর নির্বাহী সদস্য মার্ক রোয়ান গাজা পুনর্গঠনে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, রাফাহ শহরে পাঁচ লাখ বাসিন্দার আবাসন নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ঘরবাড়ি তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে গাজার অন্যান্য অংশে আরও ৪ লাখ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি রোডম্যাপের অংশ হিসেবে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ২৬টি দেশ এই বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে এবং উদ্বোধনী সভায় তাদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নীতি অনুযায়ী, তিন বছরের প্রাথমিক মেয়াদের পর বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করতে হলে সদস্য দেশগুলোকে ১ বিলিয়ন ডলার করে অবদান রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই বোর্ড, যা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
সূত্র: আরটি



